স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না : হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফ

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনষ্টের ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই হবে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপিকে আসতে হবে। কিন্তু বিএনপি যদি নির্বাচনে না এসে দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার চেষ্টা করে তাহলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তা শক্ত হাতে দমন করবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না।

সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও রোডের ফিকামলি সেন্টারে শহীদ সেলিম-দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তেব্যে হানিফ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। মির্জা ফখরুল কোন নিরপেক্ষ নির্বাচন সরকার খুঁজছেন? আপনার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে বহুবার বলেছেন- বাংলাদেশে পাগল এবং শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আপনারা কি সেই পাগল-শিশু খুঁজে বেড়াচ্ছেন। নিরপেক্ষ সরকারের নাম দিয়ে যদি মনে করেন দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটবেন তাহলে ভুল করবেন। যদি চিন্তা করেন দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসবেন এটাও ভুল। আপনাদের এমন স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থাকবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর জিয়াউর রহমানের প্রথম লক্ষ্য ছিল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা।

হানিফ বলেন, শেখ সেলিম এবং দেলোয়ার হত্যাকাণ্ড ছিলো একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগকে খন্ড-বিখন্ড করা চেষ্টা করেছেন জিয়াউর রহমান। তিনি জানতেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি একমাত্র আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধুর সৈনিকরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে। তাই তিনি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার চেষ্টা করেছেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের অনুসারীরা যখন এই দেশে গণতন্ত্রের কথা বলে, গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে তখন আমার ইচ্ছে করে তাদেরকে ডেকে বলি- আপনারা পেছনে ফিরে থাকিয়ে দেখেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান গণতন্ত্রের জন্য কি করেছিলেন?

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে অভিশপ্ত কাল ছিল উল্লেখ করে হানিফ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া-নিজামীর নেতৃত্বে সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেসময়ে তারেক রহমান একদিকে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য দেশে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। পাঁচ বছরে বিএনপি সন্ত্রাসীদের হাতে ২৬ হাজার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। আজকে মির্জা ফখরুল গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করেন। তারা বলেন, মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তখন আওয়ামী লীগের লাখ লাখ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ক্ষুধামুক্ত, উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল দেশ হবে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় সোনার বাংলা গড়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধু। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা হয়েছে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সংগ্রাম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় ফিরেছে। যে বাংলাদেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত ছিল আজকে সেই বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতা বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এ উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার জন্য বারবার নানান সময়ে, বিনা কারণে, বিনা ইস্যুতে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার চেষ্টা করেছে। তারা এখনো সুযোগ পেলে এই দেশকে পিছিয়ে দেবে। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের জন্য এই বিএনপি-জামায়াত যৌথভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে তাণ্ডব চালিয়েছিল। ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম করেছিল। তারা সরকারে থাকা অবস্থায় জনকল্যাণমূলক কাজ করেনি। তারা তাদের কর্মকান্ডের জন্য জনগণ থেকে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই ৫০ বছরে নির্বাচন কমিশনের গঠনে আইন ছিল না। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় থেকেও কেউ আইন করেনি। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশনে করেছি। আমাদের আইনমন্ত্রী সংসদে বিল উত্থাপন করলেন। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাসদসহ সকল সংসদ সদস্যের সম্মতিতে গৃহীত হলো। এরপর বিএনপি বলে তড়িগড়ি করে আইন তৈরি করা হয়েছে। এসব ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কথাবার্তা। সকালে ডান, বিকেলে বাম এই তাদের অবস্থা!

তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বলছেন- নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের মাথা ব্যাথা নেই। আপনারা যদি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন তাহলে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ ব্যবস্থাকে মানতে হবে। যারা বলেন নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই তারা এদেশের গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না। তারা আসলে নির্বাচন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। আজকে ভালো নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে কিন্তু ইতিবাচক কথা বলার মানসিকতা তাদের নেই।

স্মরণসভার সভাপতিত্ব করেন শহীদ সেলিম-দেলোয়ার স্মৃতি পরিষদ সভাপতি ড. আব্দুল ওয়াদুদ। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আর নাহিয়ান খান জয়। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির।