সাটুরিয়ায় শ্রমিক হত্যা মামলায় ২৪ ঘণ্টায় চার্জশিট দিল পুলিশ

সাটুরিয়া শ্রমিক হত্যা মামলা

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার গর্জনা এলাকায় ধান কাটার শ্রমিক আরিফ হোসেনকে হত্যা মামলায় ২৪ ঘন্টার মধ‍্যে আদালতে অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করলো সাটুরিয়া থানার চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা।

আজ ১৮ মে রোজ বুধবার মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। জানা গেছে যে, সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের ইউসুফ আলী মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বৃহস্পতিবার ধান কাটার জন‍্যে ৩ জন শ্রমিক (কামলা) বাড়িতে নিয়ে আসেন।

এ কামলাদের সবার বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ইউনিয়নে বলে জানা যায়। প্রতিদিনের মতো তারা ১৬ মে সোমবারও জমির ধান কাটতে চকে যায়। ধান কাটার সময়ে নিহত ব‍্যক্তি ও আসামির মধ‍্যে নানা বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি ও তর্ক বিতর্ক হয়। পরে তারা দুপুরের খাবার খেয়ে ক্ষেতে নাগিয়ে ক্ষেতের পাশে থাকা মেশিন ঘরে তারা বিশ্রাম নেয়। তারপর আসামী হৃদয় হোসেন সেই সুযোগে সাথীও নিহত আরিফ হোসেনের গলায় ধারালো কাস্তে (কাঁচি) দিয়ে নৃশংস ভাবে জবাই করে তাকে হত‍্যা নিশ্চিত করে।

এ হত‍্যা সংগঠিত করে সে তাৎক্ষণিক পালাতে চেষ্টা করলেও তা ব‍্যর্থ হয়। ফলে সে স্হানীয় জনতার হাতে ধরা খেয়ে তৎক্ষণাত তাকে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওই দিন রাতে এ ঘটনায় মোঃ হৃদয় হোসেনকে আসামী করে নিহতের ভাই মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় ৩০২ ধারায় একটি হত‍্যা মামলা দায়ের করে। সেই হত‍্যা মামলায় ২৪ ঘন্টার মধ‍্যে সাটুরিয়া থানা পুলিশ আজ চার্জশিট দাখিল করে নজির বিহীন দৃষ্টান্ত স্হাপন করলো।

আসামী হৃদয় জানায় যে, নিহত আরিফ হোসেন তার বউকে ফাসলিয়ে নিয়ে তাকে বিবাহ করেছে। সেই রাগে ও হতাশায় তাকে খুন করার জন‍্যে সুযোগ খোজতে থাকে তাই ওই দিন সে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে বলে জনগণ ও পুলিশকে জানায়। আগে এ সমস্ত হত‍্যা মামলার চার্জশিট দিতে কমপক্ষে ৯/১০ মাস সময় লাগতো। কিন্ত এখন কত দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হলো।

ভাবতে অভাক লাগে কিন্ত! সাটুরিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার দিন রাতে নিহতের ভাই মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ওই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। তাই মামলা রুজু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হৃদয়কে আসামি করে যটপট আদালতে চার্জশিট প্রদান করা হলো।

হত্যাকারী নিজে হত্যার দায় স্বীকার শিকার করেছে। তিনি আরো জানান যে, মামলার আলামত ও তথ্য উপাত্ত এবং তাৎক্ষণিক সাক্ষী পাওয়ায় দ্রুত চার্জশিট প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।