শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
Homeচট্টগ্রাম বি.লক্ষ্মীপুরলক্ষ্মীপুরে আ'লীগের সম্মেলনে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরে আ’লীগের সম্মেলনে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আহত ১০

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণ নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার মধ্য রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ফজু মিয়ার হাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়।

জানা যায়, বুধবার বিকালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কমলনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমিন মাষ্টার। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল বাশার, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতলব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাসেল মাহমুদ ভুঁইয়া মান্নাসহ জেলা-উপজেলা নেতাকর্মীরা।

স্থানীয়রা জানান, সম্মেলনের শেষে দিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট গ্রহণের আহবান করেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী সবুজ খান, ওমর ফারুক ও বেলাল হোসেনের সমর্থকরা স্লোগান দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটে। প্রায় আধাঘন্টা ধরে চলা এ ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রনে আনে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে নুরুল ইসলাম সাগর ও আব্বাস উদ্দিন সভাপতি পদে লড়ছেন। সাগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এবং আব্বাস ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে ওমর ফারুক ইউনিয়ন কৃষক লীগের সদস্য, সবুর খান ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও বেলাল হোসেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, নেতাকর্মীরা ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের শুরু থেকে ৪-৫ ঘণ্টা উপস্থিত ছিলেন। রাত বাড়তে থাকলে অধিকাংশ নেতাকর্মী সম্মেলন স্থল ত্যাগ করেন। ইউনিয়নের ১৯ জন কাউন্সিলরের মধ্যে শেষ পর্যায়ে ৫ জন উপস্থিত ছিলেন। সবাই ধারণা করেন, সম্মেলন কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু রাত ১২টার দিকে সম্মেলনের অতিথিরা হঠাৎ ভোটের ঘোষণা দেন। এতে কাউন্সিলররা ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে সভাপতি পদে ভোট না নেওয়ায় সংঘর্ষ ঘটে। এতে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একে অপরকে প্লাস্টিকের চেয়ার দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ২০-২৫টি চেয়ার ভেঙে যায়। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ নেতাকর্মী।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই নেতা বলেন, রাত ১২টার দিকে হঠাৎ করে ভোট রহস্যজনক। অতিথিরা সভাপতি পদে ভোট নিচ্ছেন না। সেখানে এককভাবে বর্তমান সভাপতি নুরুল ইসলাম সাগরকে ফের নির্বাচিত করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছিল। সভাপতি পদে ভোট গ্রহণ না করায় দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের লোকজনও হামলা চালায়।

এদিকে কমলনগর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি একেএম নুরুল আমীন মাষ্টার জানান, সম্মেলনে টুকটাক রাগারাগি হয়। আমরা তাদেরকে বুঝিয়ে শান্ত করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জেলা আ’লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ মান্না বলেন, সভাপতি পদে তিনটি মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী ৫ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে একজন প্রার্থী মারা যান। রাজন নৌকার বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান পদে ভোট করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নুরুল আলম সাগর সভাপতি এবং ভোটে সাধারণ সম্পাদক হন ছবুর খান।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular