রোজা রাখলে যে সওয়াব পাবেন

রোজা রাখলে যে সওয়াব পাবেন

বছরের শ্রেষ্ঠ মাস পবিত্র রমজানুল মোবারক। পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস। এ মাসে একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। সারা বছর মুসলমনরা এই মাসের অপেক্ষা করেন। রমজানের প্রতীক্ষায় প্রহর গুণেন।

রমজানের ফজিলত সম্পর্কে আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন যে, ‘তোমাদের মাঝে রমজান উপস্থিত হয়েছে, যা একটি বরকতময় মাস। মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর এই মাসের রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসের আগমনে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর আল্লাহর অবাধ্য শয়তানদের গলায় লোহার বেড়ি পরানো হয়। এ মাসে একটি রাত রয়েছে, যা এক হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। যে ব্যক্তি সে রাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত রয়ে গেল সে প্রকৃত বঞ্চিত রয়ে গেল।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২১০৬)

রোজা রাখার সওয়াব ও ফজিলত অনেক। রোজা রাখলে কী কী সওয়াব লাভ হবে এ নিয়ে হাদিসগ্রন্থগুলোতে অনেক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে রোজার কিছু অপার্থিব উপকার তুলে হলো—

এক. রোজাদারকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানসহ পুণ্যের আশায় রমজানের রোজা পালন করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (বুখারি, হাদিস : ৩৮)

দুই. জাহান্নাম থেকে মুক্তি মেলে
আবু সাঈদ আল খুদরি (রা.) বলেন, আমি মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের পথ দূরে রাখবেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৬০৩)

তিন. জান্নাতে রোজাদারকে বিশেষ সম্মাননা
সাহল (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, জান্নাতের রাইয়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ব্যতীত আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে, যাতে করে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)

চার. রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজ হাতে দেবেন
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর মর্জি হলে আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকাজের প্রতিদান ৭০ গুণ থেকে সাত শত গুণ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। আল্লাহ বলেন, তবে রোজা ব্যতীত, তা আমার জন্যই (রাখা হয়) এবং আমিই তার প্রতিদান দেব। সে তার প্রবৃত্তি ও পানাহার আমার জন্যই ত্যাগ করে। রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ, একটি আনন্দ তার ইফতারের সময় এবং আরেকটি আনন্দ রয়েছে তার প্রভু আল্লাহর সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময়। রোজাদার ব্যক্তির মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তুরীর ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধময়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৩৮)

আল্লাহ তাআলা আমাদের রোজা, তারাবি, জিকির-আজকার ও অন্যান্য সব আমল কবুল করুন। আমিন।