1. news.dailynobobarta@gmail.com : ডেইলি নববার্তা : ডেইলি নববার্তা
  2. subrata6630@gmail.com : Subrata Deb Nath : Subrata Deb Nath
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ০১:২২ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীর পদ্মার চরে বাদাম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

নাজিম হাসান, রাজশাহী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২
  • ৭৩ বার পঠিত
রাজশাহীর পদ্মার চরে বাদাম চাষে কৃষকের মুখে হাসি

Tags: , ,

বছরে দুইবার চাষ হয় এমন ফসল হাতেগুনা দুই একটি। তবে বছরে দুই বার চাষ হচ্ছে বাদামের। পতিত জমি, আর চাষাবাদে খরচ কম হওয়ায় প্রতিবছর বাড়ছে এই বাদামের চাষ। এবছর রাজশাহীর পদ্মার দুই চরে ৩০০ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে।

বিএমডিএ বলছেন, কৃষকদের আগ্রহে তারা পদ্মার চরে পুরানো জাতের বাদাম চাষ করতো। তাতে তেমন ফলন হতো না। বাদাম চাষ লাভজনক করতে বিএমডিএ বারি-৯ জাতের বাদামের (চিনা বাদাম) বীজ কৃষকদের সরবরহ করেছে। চাষাবাদে লাভজনক হওয়ায় গেল দুই বছরের ব্যবধানে বাদাম চাষের জমি বেড়েছে ১২০ বিঘা। যদিও বিএমডিএ গেল তিন বছর ধরে বাদামের বীজ সরবরহ করে আসছে কৃষকদের মাঝে।

এলাকাবাসি সুত্রে জানাগেছে, রাজশাহীর পদ্মার চরে বেশি কিছু পতিত জমি রয়েছে। সেই জমিগুলো বাদাম চাষের উপযোগী। বিএমডিএ চাষীদের বাদাম চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উন্নৎ জাতের বীজ সরবরহ করেছে। ফলে একসময় পড়ে থাকা পতিত জমিতে এখন বাদাম চাষ হচ্ছে বছরে দুই বার। একটি রবি মৌসুম অর্থাৎ নভেম্বর থেকে এপ্রিল ও খরিপ-১ মে থেকে আগস্ট মাস। বাদাম চাষে একদিকে স্থানীয় কৃষকরা লাভোবান হচ্ছেন এই অঞ্চলের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখতে পদ্মার চরের বাদাম।

বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী জিন্নুরাইন খান জানান, বর্তমানে পদ্মার চরের পবার হরিপুরের মাঝারদিয়াড় ও চর মাঝারদিয়াড়ে বারি-৯ জাতের বাদাম চাষ হচ্ছে। এই বীজ চাষীদের সরবরহ করা হয়। এই বীজ বর্তমান সময়ে অধিক ফলনশীল ও লাভজনক। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের দিকে ১৪৫ কেজি বাদামের বীজ পদ্মায় চাষের জন্য ১৩ জন কৃষককে দেওয়া হয়। সেই বছর ভালো ফলন হয়েছিল। এর পরের বছর ৩০০ কেজি বাদামের বীজ দেওয়া হয় আরো ১৫ জন কৃষককে। সর্বশেষ চলতি বছরে ২০০ কেজি বাদামের বীজ দেওয়া হয় ৯ জন কৃষককে। পদ্মার পতিত চরের জমিতে কৃষকরা এই বাদামের চাষ করেছে। ফলনও ভালো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষের খচর হয় ৭ হাজার টাকা। তাতে বিঘায় ফলন হয় ৮ মন। আর একর প্রতি ফলন ৬০ মন। সবখরচ বাদ দিয়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা কৃষকের লাভ থাকে। বর্তমানে ৩৭ জন কৃষক বিএমডিএ এর দেওয়া বীজের বাদাম চাষ করছে। এর আগে বাদাম চাষ নিয়ে পদ্মার চরে মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিএমডিএর এইচ, ভিসিপি প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ এটিএম রফিকুল ইসলাম, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জগদীশ চন্দ্র বর্মন, হরিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জনাব মঞ্জিল, মোহাম্মদ কামরুল আলম সহকারী প্রকৌশলী বিএমডিএর পবা, মোহাম্মদ রাহাত পারভেজ উপসহকারী প্রকৌশলী পবা।

বাদাম চাষী মতিউর রহমান জানান, বাদাম চাষে খরচ কম। পদ্মার পতিত জমিতে ভালো চাষ হয়। বিএমডিএ এর দেওয়া বারি-৯ জাতের বাদামের ফরন ভালো, দানাও ভালো। এবছর আমি ৭ বিঘা জমিতে বাদামের চাষ করেছি। আগে আমরা যে জাতের বাদাম চাষ করতাম তাতে ফরন কম হতো। কিন্তু এই বাদামে ফলন ভালো।

এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) তৌফিকুর রহমান জানান, জেলায় এবছর ৩৭৮ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বাঘায় সবচেয়ে বেশি। এই উপজেলায় ৩২৭ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। এছাড়া পবায় ৩০ হেক্টর, গোদাগাড়ীতে ৭ ও বাগমারায় ১০ হেক্টর জমিতে বাদামের চাষ হয়েছে। তবে গত বছরের চেয়ে এবছর ৩৪ হেক্ট জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে।

এ জাতীয় আরও খবর




All rights reserved.  © 2022 Dailynobobarta
Theme Customized By Shakil IT Park
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com