শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
HomeLatestnewsপ্রবাসের সংবাদমালদ্বীপে এমআই কলেজের স্কুল অফ এগ্রিকালচার শাখা উদ্বোধন

মালদ্বীপে এমআই কলেজের স্কুল অফ এগ্রিকালচার শাখা উদ্বোধন

বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে টপকে হাজারো দ্বীপবেষ্টিত দেশ মালদ্বীপ, পর্যটন-শিল্পে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পাঁচ লাখেরও কম জনসংখ্যার এ দেশটিকে ২০২০ সালে ওয়ার্ল্ড বেস্ট টুরিস্ট ডেসটিনেশন ঘোষণা করেছে ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যটকরা শান্ত ও মনোরম পরিবেশ, আদিম সমুদ্রসৈকতে নীলাভ জল ও ক্রান্তীয় প্রবাল প্রাচীর দেখতে অপার সৌন্দর্যময় এ দেশটিতে ছুটে আসেন। এইখানে লাখেরও বেশি সংখ্যক প্রবাসী ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য বাংলাদেশী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা উদ্যোক্তা। এই সকল প্রবাসী উদ্দোক্তারা মালদ্বীপের উন্নয়নে’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। সেক্ষেত্রে মালদ্বীপ সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করলেও সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ে রাখেন এই সকল প্রতিষ্ঠানাধীনকে।

গতকাল সন্ধায় মালদ্বীপের পুরাতন রাজধানী আড্ডু শহরে এই প্রথম এমআই কলেজের স্কুল অফ এগ্রিকালচারার এর শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্যোক্তা ও মিয়ানজ ইন্টারন্যাশনাল’র প্রতিষ্ঠিতা জনাব আহমেদ মোত্তাকী। উদ্ভোদনীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলে বাংলাদেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

শুভ উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত, বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় পরিকল্পনা ও গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী জনাব ডঃ আবদুল্লাহ সাদিক। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ও শিক্ষা বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ হালিম, এমআই কলেজের রেক্টর লামিয়া আব্দুল হাদী, বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট কৃষি পরামর্শক ডঃ মাহফুজ মির্ধা এবং ডঃ খালেদ কামাল, মালদ্বীপের আড্ডু শহরের ক্যাম্পাস ম্যানেজার এবং মিয়াঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মিস মরিয়ম শিফানা।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্দোক্তা জনাব আহমেদ মোত্তাকী বলেন শুভ সন্ধ্যা এবং মালদ্বীপের বিখ্যাত এই আড্ডু শহরের এমআই কলেজের স্কুল অফ এগ্রিকালচারের এই শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই। এই দিনটি আমার জন্য একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন এর দিন। আমি ২০১৮ সালে আমাদের “লেটস গ্রিন ইট” প্রোগ্রাম শুরু করার পর থেকে আমরা শিক্ষার মাধ্যমে কৃষি খাতের উন্নয়ন করার চেষ্টা করছি। মালদ্বীপের প্রথম কৃষি স্কুল আজ থেকে আড্ডু শহরে শুরু হবে।

এমআই কলেজেল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ শাখা চালু করতে পেরে আমি গর্বিত, এবং মালদ্বীপের আড্ডু শহরকে এই ইতিহাসের একটি অংশ করে তুলতে পেরেছি। আমাদের কৃষি কোর্সের মাধ্যমে, এমআই কলেজ শুধু বেকারত্ব কমাতেই সাহায্য করবে না, আমদানি কমাতে এবং অর্থনীতির উন্নয়নও করবে। এই কৃষি খাতে সবার জন্য রয়েছে বিশাল সুযোগ। এটি আপনার পরিবার এবং আপনাদের দেশের জন্যও একটি প্রধান জীবিকার উন্নতির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। যুবক, গৃহিণী, অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মচারীরা ফসল ফলানোর বৈজ্ঞানিক উপায়, বাগান করা, ল্যান্ডস্কেপিং শিখতে পারে।

তাছাড়া, এই হাতে-কলমে প্রশিক্ষণটি নিশ্চিত করবে যে কীভাবে একটি ছোট বাড়ির উঠোন বা ছাদকে ফুল, ফল, সবজি চাষের পাশাপাশি ডিম ও মাংসের জন্য হাঁস-মুরগি পালনের জন্য ব্যবহার করা যায়। আপনাদের দেশের প্রচুর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডর বিকাশ ঘটবে, বিশেষ করে যেহেতু আড্ডু শহর এই প্রোগ্রামের পথপ্রদর্শক এবং কি এই শহরটি মালদ্বীপের সমস্ত কৃষি কার্যক্রমের প্রধান হতে চলেছে৷ আমরা আমাদের স্কুলে একটি ভাল এবং কমপ্যাক্ট এগ্রি ল্যাব স্থাপন করেছি যেখানে প্রশিক্ষণার্থীরা কীভাবে খাদ্য বৃদ্ধি করতে হয় এবং কীভাবে কৃষি ব্যবসা পরিচালনা করতে হয় এবং উদ্যোক্তা দক্ষতাও বিকাশ করতে হয় তা শিখবে।
মালদ্বীপে এমআই কলেজের স্কুল অফ এগ্রিকালচার শাখা উদ্বোধন


বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্দোক্তা আরো বলেন যে এগ্রো এর সাথে এমআই কলেজ সর্বদা সব দিক থেকে সহায়তা করবে। আমাদের বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞরা আসছেন। তারা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত এবং দক্ষ। জাতিসংঘের স্বীকৃত প্রশিক্ষক, যারা উচ্চতা সম্পন্ন। তাদের মধ্যে মাহফুজ মির্ধা ও ডাঃ খালেদ কামাল আজ আমাদের সাথে আছেন। এই মহৎ উদ্যোগে তাদের নিরলস সমর্থনের জন্য আমরা তাদেরকে স্বাগতম জানায়। ২০১৮ সাল থেকে যখন আমি এই উদ্যোগ এর স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম তখন থেকে আমি ডঃ মাহফুজের কাছ থেকে নিরন্তর সমর্থন এবং অনুপ্রেরণা পাই। ধন্যবাদ জানাই উনার সাহসিকতাকে। ডঃ মাহফুজ এবং ডঃ খালেদ কামাল বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নের মূল ব্যক্তিত্ব। আমি বিশ্বাস করি তারা মালদ্বীপের জন্যও তাদের সেবা উৎসর্গ করবে। তারা এই দেশকেও ভালোবাসে। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি আমাদের উন্নয়ন মডেলের ইতিবাচক প্রচারের অংশ হতে পেরেছি। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে কৃষি খাতে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ এবং আমরা সবসময় আমাদের দক্ষতা বিনিময় করব।মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার রিয়ার এডমিরাল জনাব এস এম আবুল কালাম আজাদ যে মহৎ উদ্যোগের সূচনা করেছেন তা সহজ করার জন্য সর্বদা আমাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবো।

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ, আমরা আমাদের কর্মসূচির মেয়াদ বাড়াতে কৃষি জমি পাওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের প্রস্তাব নিয়ে আড্ডু শহরের কাউন্সিলরের কাছে আবেদনও করেছি, আমাদের প্রকল্পটি কার্যকর করার বিষয়ে। আমি আশা করি উনি আমাদের কৃষি বিদ্যালয়ের অনুষদ বাড়ানোর জন্য একটি জমি পেতে সাহায্য করবেন। প্রশিক্ষণের জন্য আমাদের একটি মডেল কৃষি প্রকল্প দরকার। এমআই কলেজ ব্যবস্থাপনার এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে আপনাদের সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের অর্জন মানেই আড্ডু শহরেরি অর্জন এবং মালদ্বীপের জাতীয় অর্জন। আমরা কৃষিতে সরকারের আদেশের অংশ হব। এই উদ্যোগে যারা অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন যে এই প্রকল্পটি সফল হওয়ার জন্য আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাদের সিইও মিঃ মোহাম্মদ হালিম যিনি সত্যিই খুব পরিশ্রম করেছেন এবং এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে মনোযোগী ছিলেন।

সবশেষে, বলেন এমআই কলেজে অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রচুর অফার রয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হতে দয়া করে, আপনি যদি কৃষিতে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে চান তাহলে মিস করবেন না। এই প্রোগ্রামটি সব বয়সের গ্রুপ এবং পেশার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। আপনি কাজ করলে অংশ নিতে পারেন এবং আপনি একজন গৃহিণী বা পেনশনভোগী হতে পারেন।এই বলে সবাইকে ধন্যবাদ এবং প্রোগ্রামের জন্য একটি মহান সাফল্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের (১৬ নভেম্বর) মালদ্বীপের ক্রসরোড রিসোর্টে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গোল্ড হান্ড্রেড গালা বিজনেস অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশী শিক্ষা উদ্দোক্তা জনাব আহমেদ মোত্তাকী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular