ভালুকায় বোরো ধানে চিটা, দিশেহারা কৃষক

প্রতি বছর বোরো ধান আবাদ করে পুরো সংসারের চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন কৃষক দেলোয়ার হোসেন। চলতি বছর বোরো মওসুমে প্রায় এক একর জমিতে ‘ব্রি-ধান ২৯ আবাদ করেন।

স্বপ্ন ছিলো অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও পরিবারের চাহিদা মেটানোর। কিন্তু সেটি আর হচ্ছে না। তার আবাদকৃত বেশিরভাগ জমির ধানেই ব্লাস্টের আক্রমণে চিটা হয়ে গেছে। এতে করে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি। হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন দেরোয়ারের পরিবার।

দেলোয়ার ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। বাড়ির কাছেই লাউতি খালের পাড়ে এক্সিল্যান্ড সিরামিক্স ফ্যাক্টরীর পাশে তার বোরো আবাদের জন্য বর্গা এক একর জমি। তিনি ছাড়াও একই এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলামের ১০ কাঠা ও আব্দুল মতিনের ৫ কাঠা জমিতে ‘ব্রি-ধান-২৮ আবাদ করছিলেন। তারাও চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক দোলোয়ার জানান, কৃষি অফিসারকে তিনি চিনেন না, এমনকি কখনো দেখেনই নি। দুইদিন আগে ক্ষেতের অবস্থা ভালো ছিলো কিন্তু দুইদিনেই বেশিরভাগ ক্ষেতের ধানই চিটা হয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্লকের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি অফিসার সাবেরা আক্তার মৌসুমে একবারও কৃষকদের ধারে কাছে যান না। স্থানীয় বাজারে সার কিটনাশকের দোকানে কিছু সময় কাটিয়ে চলে যান। তাই ওই এলাকার নিদিষ্ট কয়েকজন কৃষক ছাড়া তাকে অন্যরা চিনেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় বোরো ধানে চিটা হওয়ার দাবি করছেন কৃষকরা। ব্রি-২৮ জাতের ধান কাটা শুরু হলে মাড়াই করতে গিয়ে এই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে কৃষকদের অভিযোগ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জেসমিন জাহান জানান, উপজেলায় এবছর ১৮ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পোঁকা আক্রমণের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ব্রি-২৮ ধানসহ বেশ কয়েকটি জাতের ধানে চিটা দেখা দিয়েছে, তবে তার মাত্রা বেশি নয়। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক মনিটরিংয়ে রয়েছেন বলে তিনি জানান।