1. news.dailynobobarta@gmail.com : ডেইলি নববার্তা : ডেইলি নববার্তা
  2. subrata6630@gmail.com : Subrata Deb Nath : Subrata Deb Nath
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১২:২১ পূর্বাহ্ন
বুধবার, ২৯ জুন ২০২২, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

বরিশালে ভূমিখেকোরা বেপরোয়া, ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি

তুহিন হোসেন, বরিশাল ব্যুরো
  • আপডেট সময় : বুধবার, ৯ মার্চ, ২০২২
  • ৮৮ বার পঠিত
বরিশালে ভূমিখেকোরা বেপরোয়া, ধ্বংস হচ্ছে ফসলি জমি

Tags: ,

বরিশালে অবৈধ ভাবে প্রকাশ্যে ফসলি জমির মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছে প্রভাবশালী মহল। চলছে ফসলী জমির মাটিকাটা উৎসব। ফসলী কৃষি জমি পরিনত হচ্ছে পুকুর-ডোবায়। দিন দিন ফসলের উৎপাদন কমছে, বেকার হচ্ছে কৃষক, পরিবেশ হচ্ছে দূষিত। মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক ও মাহেন্দ্র ট্রলি ব্যবহারে ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্থ। আইন অমান্য করে এমনি কর্মকাণ্ড চলছে বরিশালের জেলার হিজলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়।

উপজেলার ইউনিয়নে জানপুর গ্রামের ২ টি ভেকু দিয়ে এ মাটি কাটছে। ধংশ হচ্ছে নদীর তীরের হাজার হাজার ফসলী জমি। অবৈধ ট্রলি চলাচলে ধুলার কুয়াশায় ডেকে গেছে গোটা এলাকা। এ ছাড়াও বড় বল্গগেট ব্যবহার করে নৌ পথে বিভিন্ন জায়গায় মাটি বিক্রিয় করা হয়। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক বরাবর মোহাম্মদ আলী নামক এক ব্যক্তি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফলাফল পায়নি।

বরিশাল জেলার হিজলা থানা এলাকায় অবৈধ ভাবে নদী তীর ও ফসলী জমি বিনষ্ট করে কুচক্রী মহল অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছে আর অন্য দিকে জানপুর গ্রামের অসহায় হচ্ছে কৃষক প্রশাসনের কাছে একাধিক বার অভিযোগ দিলেও নিরব ভুমিকায় রয়েছে তারা। বেশ কয়েক মাস ধরে হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নের জানপুর গ্রামের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভেকু দিয়ে দেদার চলছে বালু ও মাটি কাটা। এতে ওই এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এর প্রতিকার চেয়ে গত ২ জানুয়ারি স্থানীয় মোহাম্মদ আলী বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেন। লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হিজলার জানপুরে মেঘনা নদীসংলগ্ন ভূমিদস্যুরা কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে নিয়ে ইটভাটায় সরবরাহ করছেন। এর ফলে কৃষির নিচু জমি আরও নিচু হয়ে জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়ে গ্রামে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে। ওই এলাকায় এত বেশি বালু কাটছে যে, নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করছে। অভিযোগকারী মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, এখনো মাটি কেটে ফসলি জমি সাবাড় করে ফেলছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

হিজলা উপজেলার জানপুর গ্রামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা নবী বেপারীর ছেলে মোহাম্মদ আলী অভিযোগে উল্লেখ করো বলেন, হিজলা উপজেলা ১নং খাস খতিয়ান জানপুর মৌজায় কিছু প্রভাবশালী ভৃমিদস্যুরা কৃষি জমিতে অবৈধ ভাবে মাটি উপরিভাগ নিয়ে ইট ভাটায় অবৈধ ভাবে ব্যবসা করিতেছে। যা কৃষি জমির ও পরিবেশ এর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকি কর। এ অবস্থা বিরাজ করলে নিচুু জমি আরো নিচু হয়ে যাবে। ফলে জলোচ্ছা ঘুর্ণিঝড় সৃষ্টির সহ যে কোন প্রকৃতির দৃর্যোগ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

তিনি অভিযোগে আরো বলেন, বরিশাল এর হিজলা উপজেলার জানপুর গ্রামের নদী ভাঙ্গনকবলিত এলাকা সহ বেশ কয়েকটি গ্রাম মেঘনা নদীর পাড়ে অবস্থিত। প্রতি বছরই নদী ভাঙ্গনের ফলে ওইসব গ্রামের ফসলি জমিসহ বসত বাড়িঘর মেঘনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওইসব এলাকার মানুষ সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে কোনো রকম টিকে আছে। আবার অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এ অঞ্চলটি এখন মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের রাহুগ্রাসের শিকার হয়েছে। এখন ওইসব অঞ্চলে চলছে অবৈধভাবে মাটি কাটার মহোৎসব। স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে ভাঙ্গনকবলিত অসহায় মানুষগুলোকে লোভ-লালসা দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে স্বল্পমূল্যে জমির মাটি খরিদ করে স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনকে ম্যানেজ করে দেদারসে মাটি বিক্রি করে যাচ্ছে। স্থানীয় মাটি কাটা সিন্ডিকেটের প্রতিবাদ করলে। কিন্তু বাঁধাকে উপেক্ষা করে চলতে থাকে মাটি কাটা। পরে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করেন। তারপরও থেমে নেই মাটি কাটা। এক অদৃশ্য শক্তির হস্তক্ষেপে উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশ প্রশাসন যেন নীরব।

হিজলা উপজেলার জানপুর গ্রামে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তায় ধুলার কুয়াশায় ডেকে গেছে। এই রাস্তায় প্রতিদিন মাটি পরিবহনে ভারী ট্রাক অবৈধ ভাবে চলাচল করে। এলাকা ধুলা-বালুতে আচ্ছন্ন হয়, এতে করে যাতায়াতে নানা শ্রেণির মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনমনে ক্ষোভ। এ অবস্থায় দিশেহারা ও অসহায় জীবন যাপন করছে এবং স্বাস্থ্য হুমকির মুখে পরছে হজার হাজার মানুষ। এ ধুলার কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ও শিশু অসুস্থ্য হয়ে পরছে বেশী।

বিদ্যালয় গুলোতে উপস্থিতির হার কমেছে ৪০ শতাংশ। ভোর ৫ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটি কাটছে দেখলে মনে হয় সরকার থেকে অনুমতি নিয়ে পুকুর খনন করছে। উপজেলার জানপুর গ্রামের এলাকায় ২ টি ভেকু দিয়ে মাটি কাটছে নদীর পাশে ২ টি ভেকু দিয়ে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটি কাটছে এলাকায় প্রভাবশালী জাকির সিকদার সহ তার বাহিনী। শুধু রাস্তা দিয়েই মাটি পরিবহন করে না নদী পথে বড় বড় ব্লগেইট ভাড়া করে মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায় মাটি পৌঁছে দেয় মাটি বিক্রয় দাতারা।

ভেকু চালকরা জানায়, আমার ভেকু তো ভাড়া দিয়ে দিয়েছি মাস শেষ এ আমার ভাড়া পেয়ে যাই। তারপও বিভিন্ন জায়গায় টাকা পয়সা দিয়েই ভেকু চালাতে হয়। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শ্রেণীর ছাত্র সোহান বলেন, আমরা স্কুলে আসতে পারিনা। ধোলায় আমাদের জামা কাপড় নষ্ঠ হয়ে যায়। মাহেন্দ্রার ধুলার কারণে বাড়িতে পড়তে পারিনা, ভাত খাইতে পারিনা, দিনে জানালা খুলে পড়তে পারিনা। আমরা অসুস্থ্য হয়ে পরছি।

স্থানীয় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুমন দাস বলেন, ধুলা বালির কারণে অনেক অসুবিদায় আছি। আমদের সর্দি লেগে আছে অনেক শিশুর। ধুলার পরিমান এতোই য়ে যা চলার মতো না। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে পারছে না। কর্তৃপক্ষ কিছুই দেখছে না।

জানা যায়, উপজেলায় বৈধ ও অবৈধ ইটভাটা মিলে প্রায় ২০ টি ইটভাটর মধ্যে মোট ইট উৎপাদন হয় প্রায় ১শত কোটি। উৎপাদিত ইটের কাঁচামাল হিসেবে প্রায় ৪০ শতাংশ মাটি যায় এখান থেকেই বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে। প্রতিদিন গড়ে ৫০০শ ট্রলি বা ব্লগেট করে অবৈধ ভাবে ফসলি জমির মাটিকাটা হচ্ছে। এসব মাটি প্রায় লাখ টাকা বিক্রয় হচ্ছে ইট ভাটা গুলোতে। র্দীঘদিন যাবত চলছে এ মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা জড়িত রয়েছে বলে জানা যায় ।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি জমির মালিকগন জানান, উপজেলার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটায়। ভূমিদস্যুরা জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে ১০/১২ ফুট গভীর করে খাড়াভাবে কাটে, যাতে করে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পরে যায়।

জানপুর গ্রামেরা একজন ভুক্তভোগী জানান, আমার পাশের জমিতে মাটি কাটার ফলে আমার জমির পাড় ভেঙ্গে যায়। তাই জমিতে ফসল ফলানো যাবেনা। বিষয়টি আমি উপজেলা প্রশাসনকে পূর্বেই অবহিত করেছি কিন্তু কোন লাভ হয়নি। আবার মাটিভর্তি ট্রাক ও ট্রলিগুলো নেয়া হচ্ছে গ্রামীন ও ইউনিয়ন সড়ক দিয়ে। ফলে রাস্তাগুলো উচু-নিচু এবং বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকা ধুলা-বালুতে আচ্ছন্ন হয়, এতে করে যাতায়াতে নানা শ্রেণির মানুষের শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাটিকাটা নিয়ে একাধিকবার বাধা দিলেও অসাধু মাটি ব্যবসায়ীরা মানছে না তাদেও কথা। উল্টো তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকে। মামলা করার ও হুমকি দেয়। জানপুর গ্রামের এমন কোন এলাকা নাই যেখানে মাটি খেকুদের পদচারণ হয় নি। প্রভাবশালী ইট ভাটার মালিকরা এসব মাটি দিয়ে ইট তৈরি করছে। তিনি জানান,কোনো সংবাদকর্মী সংবাদ সংগ্রহে যেতে পারে না। ভূমিদস্যুদের নিজেস্ব সন্ত্রসী বাহিনী কেউ গেলে তাদেরতে প্রতিহত করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক বলেন, এসব জমিতে বছরে দু’টি মৌসুমে ধান, সরিষা, রসুন ও শীতকালীন সবজি ব্যাপকভাবে উৎপাদন হয়। কিন্তু কিছু অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে এসব জমির টপ সয়েল কিনে নিচ্ছেন। সারা দিন মাটি নিয়ে ট্রাক্টর চলছে। ধুলা উড়ে জমিতে পড়ছে। ধান গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। ফসল পাবো না। নদীর পাড়ে মাাটি কেটে নদী থেকে ও বড় বড় ব্লগেটে মাটি কেটে নেওয়া ব্যক্তিরা প্রভাবশালী। আমাদের কথা শোনেন না। প্রতিবাদ করলে বিপদে ফেলে দেবে। বাধ্য হয়ে জমির মাটিও তাদের কাছে কম টাকায় বিক্রি করতে হয়। আবার কখনো ভয় দেখিয়ে মাটি কেটে নেয়।

বরিশালের হিজলা থানার উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা বলেন,নদীর তীরের মাটি কাঁটার ফলে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ফলে জমির উপরিভাগের মাটিতে (টপ সয়েল) যে জীপসাম বা দস্তা থাকে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া মাটিতে যে জীবানু থাকে তা অনুজীবের কার্যাবলি সীমিত হয়ে যায়। মাটির জৈবশক্তি কমে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতির মুখে পড়বে। ঊর্বর শক্তি কমে যাওয়ার ফলে এ জমিতে আর আশানুরুপ ফলন হবে না। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এ ধরনের কর্মকান্ড বন্ধ করতে না পারলে আগামীতে সার্বিক উৎপাদনে মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে কোন কৃষক যদি লিখিত ভাবে অভিযোগ দিয়ে থাকে আমরা ব্যবস্থা নিবো।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তত করার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি হতে মাটি কাটা বা সংগ্রহ করে ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদণ্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দণ্ডেদন্ডিত হইবেন।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তা হইলে তিনি ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসন চোখের সামনে এসব কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পরও প্রশাসনের এই নিরব ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এলাকাবাসীর মনে।

একজন ইউপি সদস্য প্রকাশ্যে মাটি কাটার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একলা জনপ্রতিনিধি বাধা দিমু। একলা আমি কি করমু? দেখা যায় ৫০ জন এটার সাথে জড়িত। আমারও একই প্রশ্ন প্রকাশ্যে মাটি কেমনে কাটে। মাটি কাঁটার বিষয়ে অভিযুক্ত জাকির সিকদার বলেন, ওই এলাকায় বালু ও মাটি কাটার ঘটনা কয়েক মাস আগের। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী ইউএনও এবং ডিসির কাছে অভিযোগ দিয়েছিলেন। তার পর ওই ঘটনা বন্ধ হয়েছে। হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়নে এখন আর মাটি বা বালু কাটার ঘটনা নেই। আমি ও তাঁর জামাতা মোশারফ এ ব্যবসায় জড়িত নই।

তিনি আরো বলেন, আইন জেনেই কৃষকরা বিক্রি করছিলেন মাটি । আমরা ক্রয় করছি। উঁচু জমিতে পানি থাকে না। ফসল ভালো হয় না। মাটি কাটলে জমিতে ফসল ভালো হয়। আর এই অল্প মাটি কাঁটার বিষয়ে সকলে জানতেন এটা নোয়াখালী জেলার ভিতরে হাইম চরের মধো পড়েছে আর আমাদের এই মাটি কাটার কার্যক্রম বর্তমান এ বন্ধ রয়েছে। যারা আপনাদের এমন ভুয়া তথ্য দিয়েছে তারা আমার শত্রুতা করা জন্য করেছে । আমরা এখন কোন মাটি কাঁটার কাজের সাথে জড়িত নাই ।

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস এ প্রসঙ্গে বলেন,নদীর তীরের মাটি অবৈধ ভাবে কেটে নিয়া যাবে না এটা আইনের ডন্ডনিয় অপরাধ। মাটি কাটার ফলে নদী ভাঙ্গল এর প্রভাব আরো বৃদ্ধি পেতে পারে তাই আমরা খুব শিগগিরই এটা খোঁজ নিয়ে এই ব্যপারে ব্যবস্থতা নেওয়া হবে।

হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) অসীম কুমার জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন। মাটি কাটার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন এর সহযোগীতা চাইলে আমরা সব সময় প্রস্তত। কেউ যদি অন্যোর জমির মাটি জোড় করে কাটে তাহলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবো।

জানা গেছে, হিজলা-মুলাদীর সীমান্ত এলাকা হরিনাথপুরে নদী থেকে রাতের আঁধারে বালু কেটে জাহাজে ভরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জের সীমান্তবর্তী চর এককরিয়াও বালু কাটার অভিযোগ রয়েছে। বরিশালের হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ জানান, এমন ঘটনার কথা আমার জানা নেই। তাহলে এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হতো। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখতেছি। এই এলাকায় বালু কাটার কোনো অনুমতি নেই।

বরিশালের হিজলা উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা বলেন, আমি হিজলা উপজেলা ১নং খাস খতিয়ান জানপুর মৌজায় মাটি কাঁটার জায়গাটি পরিদর্শন করেছি এবং আগে তারা মাটি কাঁটার সাথে বেশ কিছু লোক জরিত ছিল তবে বর্তমানে এই মাটি কাঁটার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এটা বরিশাল জেলার মধ্যে পড়েনি বলে জানিয়েছেন এলাকার একাধিক ব্যক্তি।

হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মিলন জানান, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। জানপুর বড় এলাকা, তাই খোঁজখবর নেওয়া হয় না। ওখানে ব্যক্তিমালিকানা জমিও তেমন নেই। যাঁরা মাটি ও বালু কাটার অভিযোগ দিয়েছেন, সেটা অনেক আগে ছিল। এখন কী অবস্থা জানি না।

বরিশালের হিজলার পার্শ্ববর্তী মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা, কালাবদর, মাসকাটা নদীতে বালু কাটার অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার শ্রীপুর লঞ্চঘাটসংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদী, চানপুরের ইলিশা নদী, চর এককরিয়ার লাল খারাবাদ এলাকার লতা নদী, সদর ইউনিয়নের মাসকাটা নদীর সাদেকপুর গ্রামসংলগ্ন এলাকায় বালু কাটার অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী জানান, তাঁর এলাকায় বৈধ কোনো বালুমহাল নেই। তিনি নদীতে বালু কাটা বন্ধে বালু আনলোড, লোডের হিসাবে নেন। ইতিমধ্যে নদী থেকে বালু কাটার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। গত মাসেও উলানিয়ায় বালু কাটার অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। অনেকগুলো ড্রেজার জব্দও করেছেন। তবে তাঁর দাবি নদীতে বালু কাটা অনেকাংশে কমছে। আগে সপ্তাহে পাঁচটা অভিযোগ পেলে এখন পান দু-একটা। যেহেতু মেহেন্দীগঞ্জে নদীভাঙনের বড় কারণ বালু উত্তোলন। সেহেতু এ বিষয়ে তাঁরা জিরো টলারেন্স দেখাচ্ছেন।

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, আমার কাছে হিজলা উপজেলা ১নং খাস খতিয়ান জানপুর মৌজায় অবৈধ ভাবে মাটির কাঁটার বিষয়ে বেশ কিছু দিন আগে একজন অভিযোগ করেছিল। তবে সেই অভিযোগ একই ব্যক্তি প্রত্যাহার করে এসে নিয়া যায়। মাটি কাঁটার বিষয়ে আমাদের আগে জানা ছিল না এখন জানতে পারলাম। শুনেছি এটা নোয়াখালী জেলার মধো পড়েছে তবুও তদন্ত সাপেক্ষে যদি বরিশাল এর ভিতরে অবৈধ ভাবে মাটি কাঁটা হয়। অবশ্যই আমারা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অভিযান পরিচালনা করবো।

এ জাতীয় আরও খবর




All rights reserved.  © 2022 Dailynobobarta
Theme Customized By Shakil IT Park
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com