শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
Homeবরিশাল বি.বরিশালবরিশালে বন্ধের পথে করাত কল, দুর্ভোগে শ্রমিকরা

বরিশালে বন্ধের পথে করাত কল, দুর্ভোগে শ্রমিকরা

বরিশাল নগরীর অর্ধশতাধিক করাত কল হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন মালিক, কাঠ ব্যবসায়ী ও এর সঙ্গে জড়িত হাজারও শ্রমিক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে রোজগার বন্ধ। এদিকে সুদের কিস্তির টাকা পরিশোধের চাপ। সবমিলিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিকরা। ৬৫ বছর আগে নগরীর চাঁদমারী এলাকায় গড়ে তোলা হয় ‌‘নাছিমা স মিল’। বর্তমানে এটি তৃতীয় প্রজন্ম দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।

মিলের বর্তমান মালিক শিবলু মোল্লা জানান, স্বাধীনতার আগে তার দাদা এবং তার অবর্তমানে তার বাবা এটি পরিচালনা করে আসছিলেন। এখন তিনি পরিচালনা করছেন। সরকারের সব ধরনের আইন মেনে বছরের পর বছর ধরে কাঠের ব্যবসা চালিয়ে আসছেন তারা। তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ২০ দিন আগে ওইসব লাইসেন্স নবায়ন করে মিল চালানোর নির্দেশ আসে। এ জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

এরপর থেকে বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসকের কাছে দৌড়াদৌড়ি করেও কোনও লাভ হয়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন জেলা প্রশাসকের কাছে যান। আর জেলা প্রশাসক বলছেন, বিষয়টি বন বিভাগ দেখবে। রোজগার বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে হাজারও শ্রমিক করাত কলের একাধিক শ্রমিক বলেন, পেশা বলতে মেশিনে কাঠ তুলে তা ফাঁড়তে শিখেছেন। এছাড়া আর কোনও কাজ তারা পারেন না। কাজ করলেই প্রতিদিনের টাকা মেলে। না করলে কিছুই জোটে না। তার ওপর রয়েছে এনজিও’র কিস্তি। সপ্তাহে চার হাজার টাকা গুনতে হয়।

তারা আরো বলেন, মিল বন্ধ করে দিলে মালিকদের কিছু আর্থিক ক্ষতি হবে। তাছাড়া কোনও সমস্যা হবে না। কারণ তাদের টাকা আছে। তারা অন্য ব্যবসা করবে। কিন্তু শ্রমিকরা কোথায় যাবে? এ জন্য বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা স মিল মালিকদের সময় দিয়ে তাদের জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। এতে করে ব্যবসা টিকে থাকবে। তারাও কাজ হারাবে না।

ভ্যানগাড়ি ও ঠেলাগাড়ির চালক-শ্রমিকরা বলেন, তাদের কাজ না থাকায় বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে চেয়ে যা পাচ্ছেন তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলছে। সংসারে খাবার দিতে পারেন না বলে বেশিরভাগ সময় চাঁদমারীতে থাকেন। এরপর পরিবার থেকে ছেলেমেয়ে এসে খাবারের জন্য বাজার চায়। ওই সময় বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে তা দেন।

চাঁদমারী কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল হাওলাদার বলেন, ২০ দিনের বন্ধে শুধু চাঁদমারীর কাঠ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি প্রায় দুই কোটি টাকা। বন্ধের দিন যতই বাড়বে ক্ষতির পরিমাণও বাড়তে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, একদিন দোকান খুললেই বেচাকেনা না হলেও খরচ সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা। এরপর হচ্ছে ব্যবসার কথা। যেখানে করাত কল বন্ধ সেখানে কাঠের সব ধরনের অর্ডারও বন্ধ। যা অর্ডার ছিল তা দিতে না পারায় বর্তমানে যেখানে করাত কল সচল রয়েছে, সেখানে চলে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ বলেন, এক শহরে দুই নিয়ম। নগরীতে ৫১টি করাত কল রয়েছে। এর মধ্যে চাঁদমারীতে একটি এবং বাজার রোড এলাকা, রূপাতলী লালাদীঘির পাড় ও সাগরদীর বেশ কয়েকটি চালু আছে। নগরীতে যদি করাত কল না রাখা হয় তাহলে ওই মিলগুলো কীভাবে চলছে?

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সামাজিক বন বিভাগের জিএম রফিক আহমেদ বলেন, শহরের মধ্যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনও কিছু রাখা যাবে না। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ রয়েছে। তার ওপর মিল মালিকদের কোনও লাইসেন্স নেই। সবাইকে নতুন করে লাইসেন্স করতে হবে।

মিল মালিকদের লাইসেন্সের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার বলেন, এটা সম্পূর্ণ বন বিভাগের এখতিয়ারে। আমি শুধু পরিবেশ দূষণমুক্ত একটি বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে বরিশালকে গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য সকলের সহযোগিতা চাই।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular