শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
Homeবরিশাল বি.বরগুনাবরগুনায় পাকা ঘর পেলেন গোয়ালঘরে বাস করা বৃদ্ধ মকবুল

বরগুনায় পাকা ঘর পেলেন গোয়ালঘরে বাস করা বৃদ্ধ মকবুল

বরগুনার বেতাগীতে অন্যের গোয়ালঘরে বাস করা বৃদ্ধ মকবুল হাওলাদার (৭৫) এবার পাকা ঘরের চাবি পেয়েছে। অবশেষে বৃদ্ধ মকবুল ও তার বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মেয়ে মিম (১৪) এবার মাথা গোঁজার ঠাই পেলো। শুক্রবার বেলা ১১টায় বৃদ্ধ মকবুলের হাতে পাকা ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন বেতাগী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবিএম গোলাম কবির।

গত ১২-২০ ডিসেম্বর ভিবিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রকাশের পর বেতাগী পৌরসভার মেয়র অসহায় বৃদ্ধ মকবুলের অসাহায়ত্বের কথা ভেবে হাত বাড়িয়ে দেয় এবং একটি পাকা ঘর নির্মান করে দিবে বলে ওই পরিবারকে আশ্বস্ত করেন। তবে সংবাদ প্রকাশের পর সেটি দেখে পুলিশ প্রধান ডক্টর বেনজীর আহম্মদের সহধর্মিণী বাংলাদেশ নারী পুলিশ কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মির্জাও ঘর করে দিবেন বলে বেতাগী থানার ওসির মাধ্যমে প্রস্তাব দেন। কিন্তু এর মধ্যে মেয়র গোলাম কবির ওই বাড়িতে ঘর নির্মানের জন্য নির্মানসামগ্রী পাঠান।

বৃদ্ধ মকবুলের হাতে পাকা ঘরের চাবি হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন বেতাগী উপজেরা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম পিন্টু, বেতাগী থানার ওসি মো.শাহআলম, বেতাগী সদর ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ন কবির খলিফা, হোসনাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি বাবুল আকতার, সম্পাদক হাদিসুর রহমান পান্না, বেতাগী প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বপন কুমার ঢালী, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ইরান প্রমূখ।

গোয়ালঘরে বসবাস করা বৃদ্ধ মকবুল বেতাগী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জিলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে। কোন ধরনের জমিজমা না থাকার কারনে তিনি একমাত্র বুদ্ধি-প্রতিবন্ধি মেয়ে মিমকে নিয়ে অন্যের গোয়ালঘরে গবাদিপশুর বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করতেন।

ঘর হস্তান্তরের সময় স্থানীয়রা জানান, গত সাত বছর আগে বৃদ্ধ মকবুল হাওলাদারে স্ত্রী মারা যান। তখন মীমের বয়স ছয় বছর। তখন বৃদ্ধ মেয়েকে নিয়ে একটি ছোট্ট কুড়েঁর ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য গতবছর বৃষ্টি আর বাতাসে মকবুলের সেই কুড়েঁর ঘর মাটির সঙ্গে মিশে যায়। পরে প্রতিবেশি খালেদ হাওলাদারের গোয়ালঘরে ঠাঁই হয় বাবা ও মেয়ের। প্রায় ছয় মাস ধরে সেখানেই মানবেতর জীবনযাপন করেন। তবে এখন একটি পাকা ঘর পাওয়ায় শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন। এখন সবাই সাহায্য সহযোগীতা করলেই ভালোভাবে দিন কাটবে বৃদ্ধ মকবুল ও তার মেয়ে মীমের। স্থানীয়রা মেয়রের এমন উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

বৃদ্ধ মো.মকবুল হাওলাদার বলেন, নতুন একটি ঘর পেয়ে আমি অনেক খুশি। অশ্রুসিক্ত চোখে কেঁদে কেঁদে বলেন কোনদিনও ভাবিনি পাক ঘরে থাকতে পারবো। আমি যতদিন বেঁচে আছি মেয়রের জন্য দোয়া করবো।

বেতাগী থানার ওসি মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, যেহেতু আমাদের পুলিশ প্রধান ডক্টর বেনজীর আহম্মদের সহধর্মিণী বাংলাদেশ নারী পুলিশ কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সভানেত্রী জীশান মির্জা মহোদয় ঘর নির্মান করার কথা বলেছিলো এর মধ্যে মেয়র ঘর নির্মান করে দিয়েছে। অতএব আমাদের পক্ষ থেকে ওই পরিবারোর প্রতি সকল সহযোগীতা থাকবে।

এ ব্যাপারে বেতাগী পৌরসভার মেয়র এবিএম গোলাম কবির বলেন, মুজিব শতবর্ষ ক্ষনে বৃদ্ধ মকবুল হাওলাদারকে একটি ঘর করে দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। সকরের উচিত যার যার সামর্থ্যানুযায়ী অসহায়দের সহযোগীতা করা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular