1. news.dailynobobarta@gmail.com : ডেইলি নববার্তা : ডেইলি নববার্তা
  2. subrata6630@gmail.com : Subrata Deb Nath : Subrata Deb Nath
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন

ফুল দিতে গিয়ে ইবি শিক্ষকদের দুই গ্রুপে হাতাহাতি

আদিল সরকার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
  • ২১৯ বার পঠিত

Tags: , ,

স্বাধীনতা দিবসে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় শ্রদ্ধাঞ্জলির ফুল ভেঙ্গে পদদলিত হয়। শনিবার সাকাল ১০টায় স্মৃতিসৌধে এ ঘটনা ঘটে। তবে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিট পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হট্টগোল তৈরি করেছেন বলে দাবি জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতাকর্মীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে জানা যায়, জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এরপর বেদিতে ফুল দেওয়ার জন্য জিয়া পরিষদকে ডাকা হয়। এসময় নাম না ডাকা স্বত্ত্বেও শ্রদ্ধাঞ্জলি দিকে বেদির উপরে উঠেন বঙ্গবন্ধু পরিষদর শিক্ষক ইউনিটের নেতাকর্মীরা। এসময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম তাদেরকে নাম ঘোষণার পর শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করতে বলে নিচে অপেক্ষা করতে বলেন।

এসময় তারা অপেক্ষা না করেই জোর করে বেদিতে উঠতে থাকেন। এসময় ইউনিটের সদস্য হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামের সাথে সহকারী প্রক্টরের বাকবিতান্ডা হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিনসহ শাপলা ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, সম্পাদক প্রফেসর ড. মামুনুর রহমান, প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান, প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মাসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষকরা উপস্তিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেনের চেষ্টা করেন। এসময় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সিনিয়র শিক্ষকদেরকেও ধাক্কা দেয় শিক্ষক ইউনিটের জুনিয়র শিক্ষকরা। ফলে বেদিতে উভয় গ্রুপে শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
ফুল দিতে গিয়ে ইবি শিক্ষকদের দুই গ্রুপে হাতাহাতি
হাতাহাতির সময় শিক্ষক ইউনিটের সভাপতি-সম্পাদকসহ প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক নাসিমুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক আরিফ হোসেন, সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, এএইচএম নাহিদসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষককে দেখা যায়। পরে প্রক্টরিয়াল বডির চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। পরবর্তীতে শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকরা বেদি ত্যাগ করে মাঠো জড়ো হন।

এবিষয়ে কেন্দ্র ঘোষিত বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্কলভাবে সবাই শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছিলো। নিয়ম ভেঙ্গে নাম ঘোষণা করা না হলেও তারা জোর করে বেদীতে উঠে পড়ে। দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টর বাধা দিলে তার সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ন আচরণ শুরু করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে আমরা সিনিয়র শিক্ষকরা উপস্থিত হলে তাদের জুনিয়র শিক্ষকরা আমাদের সাথে বেয়াদবি করলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

এছাড়াও ড. আরফিন বলেন, আজকের বিষয়টি আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি। স্ব-ঘোষিত এই শিক্ষক ইউনিট কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমন একটি দল গঠন করেছেন। তারা ৭ মার্চ ও ১৭ মার্চ ফুল দিতে আসে নি। আজকে আজ ফুল দিতে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এটা তাদের উদ্দেশ্য প্রেণোদিত ও পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। শহীদ বেদিতে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করছি।
ফুল দিতে গিয়ে ইবি শিক্ষকদের দুই গ্রুপে হাতাহাতি
এদিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শিক্ষক ইউনিটের শিক্ষকরা এ ঘটনার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। মানববন্ধনে শিক্ষক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদনের অধিকার সবার আছে। আমরা শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অগ্রসর হলে সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম আমাদের ফুল দিতে বাধা দেয়। ফলে বেদিতে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। একইসাথে শিক্ষকরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবি করছি।

এবিষয়ে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আজকের এই ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত। তা কখনো কাম্য নয়। আমাদের একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ রাখা উচিত।’

এ জাতীয় আরও খবর




All rights reserved.  © 2022 Dailynobobarta
Theme Customized By Shakil IT Park