ফুলবাড়ীতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

ফুলবাড়ীতে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ থাকায় এর প্রভাবে ফুলবাড়ীতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৯ থেকে ১০ টাকা। একই কারণে দেশীয় পেঁয়াজের দামও বেড়েছে কেজিতে ১০ থেকে ১২ টাকা। পেঁয়াজের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতাসাধারণ।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ফুলবাড়ী উপজলার পৌর এলাকাসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, পৌর বাজারের পাইকারী ও খুচরা সবকয়টি পেঁয়াজের দোকানেই ভারতীয় ও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কম রয়েছে। এ কারণে দাম উর্ধ্বমুখী। অথচ চারদিন আগেও প্রতিকেজি ভারত থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ১৩ থেকে ১৪ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ওই পেঁয়াজই খুচরা বাজারে ১৫ থেকে ১৭ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে এখন দাম বেড়ে সেই একই পেঁয়াজ পাইকারী বাজারে ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি এবং খুচরা বাজারে ২৯ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে দেশীয় পেঁয়াজেরও দাম ২৬ টাকা থেকে বেড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ টাকা কেজির কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় পাইকারী পেঁয়াজ বিক্রেতা কালু কান্ত দত্ত বলেন, হিলি স্থলবন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানী বন্ধ থাকায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে হিলির আমদানীকারকদের ঘরে যেসব পেঁয়াজ মজুত রয়েছে সেইসব পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন তারা। এ কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানী শুরু হলে দামও কমে আসবে।

ফুলবাড়ী পৌর বাজারে বাজার করতে আসা রিকশা চালক আফজাল হোসেন বলেন, কয়দিন আগেও পেঁয়াজ ১৫/১৬ টাকা কেজি দরে কিনতে পারলেও আজ সেই পেঁয়াজ প্রায় ৩০ টাকা। বাজার করতে আসলেই বেকায়দায় পড়তে হচ্ছে। কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজার করতে এসে পকেটের বাজেট মেলানো দায় হয়ে পড়ছে।

ফুলবাড়ী পৌর বাজারের খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা আব্দুল জলিল, শাহ আলম ও শাহ জামাল বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানী না থাকায় স্থানীয় কাইকাড় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় তাদেরকেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন বলেন, সর্বশেষ গত ৩০ এপ্রিল ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এরপর থেকে নতুন করে পেঁয়াজ আসেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাজারের দিকে নজরদারি রয়েছে প্রশাসনের।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, বিক্রেতারা যেন ভোক্তাদের কাছে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে না পারেন, সেজন্য বাজারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।