প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে জরিমানা আদায়, হদিস নেই টাকার!

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের থেকে জরিমানা করে টাকা আদায় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদায়কৃত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে নিজেদের মতো করে ভাগ করে নিয়েছেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঝিনাইদহ আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরের কিছু গাছ কেটে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে৷ পরে বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জরিমানা আদায় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট শাখার কর্মকর্তারা। এসময় ওই শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন শাবু তাদের কাছ থেকে চার হাজার টাকা জরিমানার কথা বলে নেন।

এসময় তারা এ জরিমানা প্রশাসনের নির্দেশে নিচ্ছেন বলে জানান। তবে টাকা নেয়ার পর তাদেরকে কোন রশিদ বা লিখিত দেননি। এদিকে টাকা নেয়ার একদিন পর আনসার সদস্যদের কাছ থেকে মুচলেকাও নেয় তারা৷ এসময় মুচলেকায় গাছ কেটে নেয়ার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অপরাধ, পরবর্তীতে আর করবেন না বলে জানান ঝিনাইদহ আনসার কমান্ডার তাহাজউদ্দীন ও সহ-কমান্ডার মজিদ।

তবে মুচলেকায় জরিমানার কোন বিষয় উল্লেখ ছিল না। লিখিত কোন কিছু ছাড়াই প্রশাসনের কথা বলে এই জরিমানা আদায় করেন স্টেট শাখার এই কর্মকর্তারা। এদিকে টাকা নিয়ে সে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা দেয়ার কথা থাকলেও প্রায় ১ মাস সময় গড়ালেও সে টাকা জমা দেয়া হয় নি বলে জানা গেছে৷ নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ করে নেয়ার কথা জানা গিয়েছে। এর আগেও স্টেট শাখার বিরুদ্ধে ওজন ছাড়াই ক্যাম্পাসের খড়ি বিক্রি করার অভিযোগ আছে৷ যেখানে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা আনসার ক্যাম্পের প্রধান কমান্ডার (পিসি) তাহাজউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা সাধারণত ক্যাম্পাসে কিছু মরে যাওয়া গাছ কেটে রান্নার কাজে ব্যবহার করেছিলাম। আমরা ভুল বুঝতে পেরে স্টেট শাখার সাথে কথা বলে ভবিষ্যতে এমন হবে না বলে জানিয়েছে। পরে তারা আমাদের কাছ থেকে শাস্তিস্বরূপ ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। সাথে মুচলেকাও নিয়েছেন। তবে টাকা জমা নেয়ার কোন রশিদ বা লিখিত দেননি তারা। রশিদ দিতে কয়েকদিন বললেও তারা রশিদ দেননি।

এবিষয়ে স্টেট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাজমুল হোসেন শাবু জানান, নির্দেশনা অনুযায়ী আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। তবে সে টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা হয়েছি কিনা তা শাখা প্রধান জানেন। এবিষয়ে আমি কিছু বলতে পারিনা।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে স্টেট শাখার প্রধান টিপু সুলতান বলেন, নাজমুল (শাবু) তাদেরকে টাকা নিয়ে লিখিত দেয়ার কথা ছিল। আচ্ছা আমি রবিবারের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করে নিব, বলে প্রতিবেদককে জানান টিপু।