নিউমার্কেট এলাকায় দোকান খোলা শুরু

নিউমার্কেট

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের জেরে দুই দিনের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকায় দোকান খোলা শুরু হয়েছে।

সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে গতকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের সাড়ে তিন ঘণ্টা বৈঠকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দোকান খোলার সিদ্ধান্ত হয়। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকাল ৯টার দিকে কিছু দোকান খোলা দেখা যায়। বন্ধ দোকানগুলোর সামনে জটলা দেখা যায় কর্মীদের।

নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, তবে পুরো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ। এখনও বেশির ভাগ মার্কেট তালাবদ্ধ। চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের নিচে ৩০ জনের মতো পুলিশ সদস্যকে দেখা যায়। কাছাকাছি ঢাকা নিউ সুপার মার্কেটের পাশে পুলিশের আরেকটি দলের অবস্থান দেখা যায়। রাস্তার বিপরীতে গাউছিয়া সংলগ্ন নুর ম্যানশনের সামনে একাধিক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি চোখে পড়ে। কাছাকাছি ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের পাশেও পুলিশের একটি দল অবস্থান নেয়।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের ‘স্ন্যাকস কর্ণার’ নামের একটি দোকানে খাবার তৈরি করতে দেখা যায়, তবে দোকানটির শাটার অর্ধেক নামানো ছিল৷ হকার্স মার্কেটের গেটগুলোতে তালা ঝুললেও ভেতরে দোকানমালিকদের অবস্থান দেখা যায়। ওই সময় অনেক কর্মচারী বাইরে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন।

অন্যদিকে ঢাকা কলেজের বিপরীত পাশে যাদব ঘোষ অ্যান্ড সন্স নামের মিষ্টির দোকানে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি দেখা যায়। পাশেই মোহন চান গ্র‍্যান্ড সন্স নামে মিষ্টির দোকান খোলা দেখা যায়৷

নুরজাহান সুপার মার্কেটের সামনে ফুটপাতের এক পোশাক বিক্রেতা বসে ছিলেন কাপড় নিয়ে। মো. মনির নামের সেই বিক্রেতা বলেন, ‘কখন খোলা যায়, তার তো কোনো স্টেশন নাই। হেরা কইছে খুলব। কখন যে খুলব?’

নুর ম্যানশনের দাদু ওয়ান নামের জুতার দোকানের স্বত্বাধিকারী নেসার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা যে দোকান খুলতে পারছি, এটাই আনন্দ লাগছে। ক্ষতি যা হইছে ওটা তো আর কেউ দেবে না। ‘এখন আমাদের কাছে একটি দিন এক মাসের সমান।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সাদিয়া পারভিন সকালেই এসেছেন নিউ মার্কেট এলাকায়। নুর ম্যানশনের একটি দোকান থেকে ব্যাগ কিনেছেন তিনি। সাদিয়া বলেন, ‘আসছি তো ভয়ে ভয়ে দোকান খোলে কি না; খোলা পাব কি না। এখন দেখছি তো দোকানপাট খুলছে। পুলিশের ব্যাপক সদস্য আছে, যা জনমনে স্বস্তি দিচ্ছে।’