আজ শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২ | সময় : ১২:৫৫ অপরাহ্ণ
হোমLatestnewsবিনোদনদিনে দিনে যেন বয়স কমছে জয়া'র!

দিনে দিনে যেন বয়স কমছে জয়া’র!

জয়া আহসান। দুই বাংলার আবেদনময়ী এক নায়িকার নাম। তার বয়স কত হলো? বয়স দিয়ে কি নায়িকা জয়াকে মাপা যায়? যায় না। অন্য নায়িকাদের বয়স যখন হু হু করে বাড়ছে, তখন জয়ার বয়স কমছে। দিন যত যাচ্ছে তার বয়স তত কমছে। যুবতী থেকে ধীরে ধীরে হয়ে উঠছেন সদ্য কৈশোর পেরোনো ষোড়শীর মতো।

রূপালি পর্দায়, সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় তার প্রাণচঞ্চল হাসির তোড়ে মোহমুগ্ধ ভক্তরা। অথচ কি আশ্চর্য! তার সমবয়সী অনেক নায়িকায় এখন অভিনয় করেন মায়ের ভূমিকায়। জয়ার এই তারুণ্যের পেছনের রহস্য কি? তার শরীর সচেতনতা, কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত ব্যায়াম। নিজের ফিটনেস ধরে রাখতে তার কসরতের অন্ত নেই। সেসব কসরতের কিছু কিছু বিষয় তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শেয়ার করেন।

নান্দনিক কর্মজীবনে তিনি এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছেন, এতখানি জনপ্রিয়তা আর প্রশংসা পেয়েছেন, তার সম্পর্কে দু’চার পাতা লেখা তো উচিৎ বটে। জয়া আহসান নিঃসন্দেহে তার প্রজন্মের সেরা অভিনেত্রী। শুধু তার প্রজন্ম বলাটাও ভুল হবে। তার পরবর্তী প্রজন্মের দিকে তাকালেও তিনিই শীর্ষে থাকেন। তাকে অনুসরণ করে অভিনয়ে পথ চলতে চান অন্য অভিনেত্রীরা। যেন জয়া অভিনয়ের জীবন্ত এক দেবী। তার সুনিপুণ অভিনয়ে মুগ্ধ দেশের মানুষ।

প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিনে সমালোচকরা। শুধু কি বাংলাদেশেই, কলকাতায়ও জয়ার অবস্থান প্রথম সারিতে। সেখানকার নির্মাতা-প্রযোজক এবং দর্শকদের কাছে জয়া আহসানের চাহিদা একদম উপরের দিকে। একের পর সফল ও দর্শকনন্দিত সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকেই ছাড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জয়া আহসান


দুই বাংলায় অসামান্য জনপ্রিয়তা ও সাফল্য অর্জন করা এই অভিনেত্রীর জন্মদিন আজ। শুভ জন্মদিন জয়া আহসান। ১৯৭২ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তার আসল নাম জয়া মাসউদ। ছোট বেলা থেকে নাচ, গানের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন জয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকাও শিখেছিলেন।

জয়া আহসানের ক্যারিয়ার শুরু হয় ছোট পর্দা দিয়ে। তিনি বহু নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন। মডেল হয়েছেন অনেক বিজ্ঞাপনের। জয়ার অভিনীত ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘এনেছি সুর্যের হাসি’, ‘শঙ্খবাস’, ‘আমাদের ছোট নদী’, ‘কফি হাউজ’, ‘দরজার ওপাশে’, ‘লাবণ্য প্রভা’, ‘মানুষ বদল’ ও ‘সম্পর্কের গল্প’ ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি ‘হাটকুঁড়া’, ‘জাল’, ‘জননীর কান্না’, ‘কুহক’, ‘পাঞ্জাবীওয়ালা’, ‘হ্যালোউইন’, ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’, ‘অফ বিট’, ‘আমাদের গল্প’ এবং ‘তারপরেও আঙুরলতা নন্দকে ভালবাসে’ ইত্যাদি একক নাটকে অভিনয় করেছেন জয়া।

গুণী এই অভিনেত্রীর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ২০০৪ সালে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ সিনেমা দিয়ে। জয়া বরাবরই সময় নিয়ে সিনেমা করেছেন। যার ফলে তার একটি সিনেমা থেকে অন্য সিনেমার মধ্যকার সময় বেশ লম্বা। ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার পর ৬ বছর বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় সিনেমায় কাজ করেন তিনি। সেটি ছিল নুরুল আলম আতিক পরিচালিত ‘ডুবসাঁতার’।
জয়া আহসান


প্রথম দুটি সিনেমায় জয়া তার অভিনয় দক্ষতা ফুটিয়ে তুললেও সেভাবে জনপ্রিয়তা পাননি। আলোচনার টেবিলেও তার নাম সেভাবে আসেনি। ২০১১ সালে জনপ্রিয়তা আর প্রশংসা সব একসঙ্গে নিজের করে নেন জয়া। সে বছর তিনি তানিম নূর পরিচালিত ‘ফিরে এসো বেহুলা’ এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু পরিচালিত ‘গেরিলা’-য় অভিনয় করেন। এর মধ্যে ‘গেরিলা’ তাকে এনে দেয় দারুণ গ্রহণযোগ্যতা।

এই সিনেমার জন্য জয়া ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জুরিদের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ নারী চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০১৩ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার অর্জন করেন জয়া।

‘গেরিলা’র পর কলকাতার নির্মাতা-প্রযোজকদেরও নজরে আসেন জয়া আহসান। সেই সুবাদে তিনি টলিউডেও কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে তরুণ নির্মাতা রেদওয়ান রনি পরিচালিত ‘চোরাবালি’ সিনেমায় কলকাতার ইন্দ্রনীল সেনগুপ্তের সঙ্গে অভিনয় করে কলকাতায়ও আলোচিত হন। এই সিনেমার জন্যও জয়া ২০১৩ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে তারকা জরিপে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। এছাড়া টানা দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
জয়া আহসান


২০১৩ সালে জয়া আরও বেশি মেলে ধরেন নিজেকে। এই বছর তিনি কলকাতার খ্যাতিমান নির্মাতা অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ সিনেমায় অভিনয় করেন। যেখানে তার বিপরীতে ছিলেন আবির চ্যাটার্জি। এই সিনেমার জন্য জয়া আহসান ভারতের ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে সেরা নবীন অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পান। একই বছর তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় আয়োজন কান চলচ্চিত্র উৎসবে নিমন্ত্রণ পান।

ওই বছরেই জয়া আহসান ঢাকায় অভিনয় করেন শাফি উদ্দিন শাফি পরিচালিত ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ সিনেমায়। এখানে তিনি প্রথমবারের মতো অভিনয় করেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খানের বিপরীতে। সিনেমাটি দারুণ ব্যবসা সফল হয়। সেই সঙ্গে এই সিনেমার জন্য জয়া মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার ও টানা তৃতীয়বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৫ সালে জয়া আহসান অভিনয় করেন টিভি পর্দার গুণী নির্মাতা অনিমেষ আইচ পরিচালিত ‘জিরো ডিগ্রি’ সিনেমায়। এই সিনেমায় তুখোড় অভিনেতা মাহফুজ আহমেদের সঙ্গে অভিনয় করেন তিনি। থ্রিলারধর্মী এই সিনেমায়ও জয়ার অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। সেই সঙ্গে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচকদের বিচারে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পান এবং ২০১৭ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন জয়া।

২০১৫ সালেই জয়া কলকাতায় আরও একটি সফল সিনেমায় অভিনয় করেন। সেটি হচ্ছে সেখানকার খ্যাতিমান নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ‘রাজকাহিনী’। দেশভাগের কাহিনি নিয়ে নির্মিত এই সিনেমায় সাহসী চরিত্রে অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসার পাশাপাশি কিছুটা সমালোচনার শিকারও হন। এই সিনেমার জন্য তিনি কলকাতায় টেলি সিনে পুরস্কারে পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে সেরার পুরস্কার লাভ করেন।

এর পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে জয়া অভিনয় করেন ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২’ সিনেমায়। এছাড়া একই বছর তিনি কলকাতায় আরও একটি আলোচিত সিনেমায় কাজ করেন। সেটি হচ্ছে গোয়েন্দা চরিত্রভিত্তিক সিনেমা ‘ঈগলের চোখ’।
জয়া আহসান


এগুলো ছাড়াও জয়া আহসান অভিনয় করেছেন ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘পুত্র’, ‘ক্রিসক্রস’, ‘ভালোবাসার শহর’ ও ‘খাঁচা’ সিনেমাগুলোয়।
জয়া আহসান অভিনীত দারুণ জনপ্রিয় সফল দুটি সিনেমা হচ্ছে ‘বিসর্জন’ ও ‘বিজয়া’। কলকাতার নন্দিত নির্মাতা কৌশিক গাঙ্গুলি পরিচালিত এই দুটি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি জিতে নেন দুই বাংলার দর্শকদের মন। এছাড়া ‘বিসর্জন’-এর জন্য ভারতের জি সিনে পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

২০১৮ সালে জয়া আহসান নিজেই সিনেমা প্রযোজনায় নামেন। তার প্রযোজনায় নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘দেবী’। হুমায়ূন আহমেদের বিখ্যাত সৃষ্টি রহস্যময় চরিত্র মিসির আলি সিরিজের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এটি। এই সিনেমায়ও জয়ার অভিনয় দর্শক-সমালোচকদের মুগ্ধ করে। পাশাপাশি সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবেও সফল হয়।

একই বছর কলকাতায় মুক্তি পায় জয়ার আরেক সুপারহিট ও নন্দিত সিনেমা ‘কণ্ঠ’। সেখানকার সফল নির্মাতা জুটি শিবপ্রসাদ মুখার্জি ও নন্দিতা রায়ের এই সিনেমা কলকাতার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশেও দারুণ আলোচিত হয়। ২০১৯ সালে জয়া অভিনয় করেন কলকাতার মেগাস্টার প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। অতনু ঘোষ পরিচালিত ‘রবিবার’ সিনেমায় তাদের দু’জনের অভিনয় মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শক-সমালোচকদের মনে।

অভিনয়ের দক্ষতায় জয়া যেমন মুগ্ধ করেছেন সবাইকে, তেমনি ভারি হয়েছে তার পুরস্কারের পাল্লা। এই পর্যন্ত তিনি চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দুইবার বাচসাস পুরস্কার, সাতবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার, দুইবার ভারতের ফিল্মফেয়ার (পূর্ব) এবং একবার টেলি সিনে পুরস্কার অর্জন করেছেন। এছাড়া অসংখ্যবার পেয়েছেন মনোনয়ন।

ব্যক্তিগত জীবনে জয়া আহসান বিয়ে করেছিলেন মডেল-অভিনেতা ফয়সাল আহসানকে। তবে ২০১১ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর আর নতুন করে বিয়ে করেননি তিনি। বর্তমানে তার ধ্যান জ্ঞান সিনেমা ঘিরেই।

আরও পড়ুন
- Advertisment -

আলোচিত সংবাদ