টাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট

টাঙ্গাইলে আ’লীগ নেতার বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেনসহ পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল ১১টা থেকে প্রায় ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী ওই তাণ্ডব চালানো হয়। এ ঘটনায় গোপালপুর সার্কেলের এএসপি মাসুদ রানাসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াদ খান জয়, ফরিদা ইয়াসমিন, নারগিস বেগম, কামাল হোসেন, নাঈম, ফয়সাল, রনিসহ অনেকেই জানান, দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: ইকবাল হোসেন চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠেয় ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতিকে চেয়ারম্যান পদে অংশ নেন। ওই নির্বাচনে টাঙ্গাইলের খান পরিবার সমর্থিত রেজাউল করিম মটু ঘোড়া প্রতিকে নির্বাচিত হন। পরে জালিয়াতির অভিযোগ এনে ভোট পুন:গণনার দাবিতে নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। আগামী ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে ওই আবেদনের শুনানীর দিন ধার্য রয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু ও অপর প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন কর্মী দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে উদ্যোক্তা নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেন। কর্মীদের ফিরিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে উদ্যোক্তার সাথে রূঢ় আচরণ করেন। এ খবর পেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু’র কর্মী সর্মথক ডেকে এনে মোঃ ইকবাল হোসেন ও তার কর্মীদের পাঁচটি বাড়িতে ভাংচুর চালায়।

দীর্ঘ ঘন্টাব্যাপী তাণ্ডবে ভাংচুরকৃত বাড়িগুলো হচ্ছে- দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মেঘ শিমুল গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে মোঃ ইকবাল হোসেনের ২টি ঘর, তার ভাই সালামত হোসেন হিটলুর ২টি ঘর, ফরিদ হোসেনের ২টি ঘর, তার কর্মী বেলদহ গ্রামের আঃ রহিমের ছেলে কামাল হোসেনের ২টি, উপলদিয়া গ্রামের শামছুদ্দিনের ছেলে মাসুদ রানার ২টি ঘর দা, চাপাতি, হকিস্টিক, লাঠি, রড ইত্যাদি দিয়ে ভাংচুর চালায়। এসময় হামলাকারীরা মোঃ ইকবাল হোসেনের বাড়ি থেকে একটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ ইকবাল হোসেন ডেইলি নববার্তাকে জানান, ইতোপূর্বে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় ঘাটাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা তার উপর রুষ্ঠ হন। নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ায় ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী রেজাউল করিম মটু তার উপর ক্ষুব্ধ। তিনি আরও জানান, রেজাউল করিম মটু একজন কুখ্যাত রাজাকারের নাতি। সাবেক এমপি রানার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ তার ও তার কর্মীদের পাঁচটি বাড়ির ১০টি ঘর কুপিয়ে বসবাসের অযোগ্য করে রেখেছে।

দিঘলকান্দি ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু ডেইলি নববার্তাকে জানান, ইউনিয়ন পরিষদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকীর প্রোগ্রাম করার জন্য আমার কিছু কর্মিরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সেখানে উদ্যোক্তা ও কর্মিদের সাথে মো: ইকবাল হোসেনের বাক-বিতন্ডার মধ্যে ইকবাল হোসেন ও তার লোকজন আমার লোকদের মারাপিট করে। পরে উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসত বাড়িতে হামলা চালায়। খবর পেয়ে আমার ছোট ভাইকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।

ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আজহারুল ইসলাম বিপিএম ডেইলি নববার্তাকে জানান, বাড়ি-ঘরে হামলার ঘটনায় মোঃ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।