শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
Homeরংপুর বি.পঞ্চগড়জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি, অভিযুক্তদের সাথে স্বামীর আপোস

জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি, অভিযুক্তদের সাথে স্বামীর আপোস

জাহানারা হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পরও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। হত্যাকান্ডের শিকার দেবীগঞ্জ উপজেলার সবুজ পাড়া গ্রামের হাছেন আলীর মেয়ে জাহানারা বেগম একই উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের খারিজা ভাজনী কামাত পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের সাথে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজন মোজাফফর ও ফনি ভুষন দেবকে আটক করেছিল দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ। এইদিকে মামলার তিন দিনের মধ্যে ভিকটিমের স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আটক দুইজন হত্যায় জড়িত নয় বলে অ্যাফিডেভিট করে দেন। পরে জামিনে বের হয়ে আসেন আটককৃতরা।

জাহানারার স্বামী আব্দুর রাজ্জাকের সাথে সন্দেহভাজন আসামীদের আপোসের পরে মামলার তদন্তে ধীরগতি শুরু হয় বলে অভিযোগ মামলার বাদীর। এইদিকে ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার সফিয়ার রহমান বঙ্কু ও বুলেট পলাতক রয়েছেন। দীর্ঘদিনেও পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায়, ন্যায় বিচারের আশা হারাচ্ছেন বাদী।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি


মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) বজলুর রশীদের বদলীর পর তদন্তের দায়িত্ব পান দেবীগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক রাশীদুল আলম চৌধুরী। তিনি জানান, জামিন প্রাপ্ত আসামীদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বাকী দুইজন আসামী ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছেন।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি

প্রসঙ্গত, জাহানারার বাবা হাছেন আলী বাদী হয়ে গত বছর ১৫ মার্চ দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামী উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করেন, জাহানারা এলজিইডির মাটিকাটা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন ১৪ মার্চ রাতে সন্তানদেরকে খাবার দিয়ে বাইরে গেলে গভীর রাত হলেও বাড়িতে ফিরে আসেনি। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে, না পেয়ে ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে সাতটায় স্থানীয়রা দেখেন জাহানারা বাড়ির পাশেই বাঁশবাগানে গলায় রশি দিয়ে ফাঁস লাগানো রয়েছে। বাদীর ধারণা যেকোনো সময় অজ্ঞাত নামা দুস্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য মৃতদেহ উল্লেখিত স্থানে গলায় রশি দিয়ে বাঁশের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।

সরেজমিন দেবীগঞ্জ উপজেলার খারিজা ভাজনি কামাত পাড়ায় স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জাহানারা বেগম প্রতিবেশী সফিয়ার রহমান বঙ্কু ও মোজাফফর হোসেনের মাধ্যমে লাভ নিয়ে টাকা লেনদেন করতেন।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি

প্রতিবেশী আনসার ভিডিপির সদস্য আমিনা বেগম জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে আমি লাশ নামানোর পর মৃতদেহ পর্যবেক্ষণ করি, তাতে যৌনাঙ্গ ফুলা সহ গলা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দাগ ছিল এবং মাথার চুল বাঁধানো কাকড়া ক্লীপ ভাংগা অংশ মাথার বিভিন্ন স্থানে ঢুকানো ছিল। ক্রিমিনাল ইনভেষ্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) দেওয়া ফরেনসিক রিপোর্টে ভিকটিমের পরনের কাপড়ে পুরুষের বীর্য সনাক্তের কথা উল্লেখ করা হয়।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি

ঘটনার পর থেকে পলাতক, সফিয়ার রহমান বঙ্কু ও তার বাবা আজিজার রহমানের মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। ওই অডিও ক্লিপে ঘটনার সাথে মোজাফফর, ফনি ভুষন দেব সিংহ জড়িত রয়েছেন বলে স্বীকার করেন সফিয়ার রহমান বঙ্কু।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি

জাহানারার বাবা হাছেন আলী জানান, তার মেয়েকে যারা নির্মমভাবে ধর্ষণের পর হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি। তিনি আরও জানান, পলাতক বুলেট কিছু দিন আগে এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করেছিল, পুলিশকে জানানোর পরেও পুলিশ বুলেট কে আটক করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি আপোষ করারও কথা বলা হয়েছে।
জাহানারা মৃত্যুর মামলায় তদন্তে ধীরগতি

দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা না বলে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular