চরফ্যাশনে ভুল চিকিৎসার শিকার রোগীরা

ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলা সদরে চরফ্যাশন ডেন্টাল পয়েন্ট এখন মৃত্যুর কুপ। এমডিএস ডিগ্রী বিহীন বিএমডিসির সনদ ছাড়াই ডাক্তার আশরাফ আলী বিশ্বাষ রিয়াদের অপচিকিৎসায় চার বছরের শিশু সান শিকদার এখন মৃত্যুর পথযাত্রী। সাংবাদিক সম্মেলনে সানের পিতা ৪ মার্চ’২২ তারিখ এক সংবাদ সম্মেলনে ঐ ডাক্তারের অপচিকিৎসার কথা তুলে ধরেন।

আশরাফ আলী বিশ্বাষ রিয়াদ চরফ্যাশন ডেন্টাল পয়েন্টে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোগী দেখেন। এ ডেন্টাল ডাক্তারের নেই এমডিএস সনদ। নেই বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশন। সরল বিশ্বাষে এই ভুয়া ডাক্তারের হাতে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সান শিকদারের মত রোগীরা হচ্ছে প্রতারিত। হচ্ছে অপচিকিৎসার শিকার।

গোটা চরফ্যাশন, বোরহানউদ্দিন,লালমোহন,দৌলতখান ও মনপুরায় পাচঁশতাধিক সাইনবোর্ড লাগিয়ে এবং অর্ধশত গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তারদের পার্টনারশীপ দিয়ে ডেন্টাল চিকিৎসার নামে একটি সিন্ডিকেট তৈরী করেছেন। চতুর ডাক্তার আশরাফ আলী বিশ্বাষ রিয়াদ দু হাতে কামাই করে যাচ্ছেন রোগীদের সরল বিশ্বাষের সুযোগ নিয়ে।

গ্রাম্য ডাক্তারদের জন্য খুলেছেন ট্রেনিং সেন্টার। এই ট্রেনিং সেন্টারেরও নেই কোন সরকারি অনুমোদন। মুলত আশরাফ আলী বিশ্বাষ রিয়াদ রোগী ধরার জন্য কৌশলে গ্রাম্য ডাক্তারদের রোগীর দালাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

চরফ্যাশন ডেন্টাল পয়েন্টে একটি এক্সরে মেশিন থাকলেও নেই পরমানুর লাইসেন্স। চরফ্যাশন ডেন্টাল পয়েন্টে ৬/জন ডাক্তারের নামের সাইনবোর্ড থাকলেও রোগী দেখেন আশরাফ আলী বিশ্বাষ রিয়াদ।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী চার বছরের শিশু সান শিকদারের পিতা আওরঙ্গজেব প্রিন্স চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এবং সংবাদ সম্মলেনে বলেন,আমি আমার ৪বছরের শিশুপুত্র শান সিকদারের দাতের ব্যথার চিকিৎসার জন্য শরীফ পাড়াস্থ “ডেন্টাল পয়েন্ট” দন্ত চিকিৎসক ডাঃ আশরাফ আলী বিশ্বাস রিয়াদ এর কাছে যাই। ডাক্তার তার ব্যবস্থাপত্রে সেফ-৩ ও প্লামেক্স সিরাপ লিখে দেয়। সেফ-৩ দুই চামুচ করে তিন বেলা এবং প্লামেক্স এক চামুচ করে তিন বেলা খেতে লিখে দেয়।এ সব ঔষধ খেয়ে আমার বাচ্চা অসুস্থ্য হয়ে পরে। তিনি ডাক্তার আশরাফ আলী বিশ্বাস রিয়াদের বিচার দাবী করে বলেন, আগে জানতাম না যে তার ডিগ্রী নাই, রেজিষ্ট্রেশন নাই। আমার বাচ্চা অসুস্থ্য হওয়ার পরে জেনেছি তিনি অযোগ্য ডাক্তার।

এদিকে কাগজপত্রে আশরাফ আলী বিশ্বাস রিয়াদ নিজেকে এমডিএস পাশ করা ডাক্তার ,এমডিএস (চীন),ডেন্টাল ও মেক্সিফেসিয়াল সার্জন লিখলেও তার কোন সত্যতা খুজে পাওয়া যায়নি।বিএমডিসির ওয়েব সাইটে আশরাফ আলী বিশ্বাস রিয়াদের নামে এমডিএসের কোন রেজিষ্ট্রেশন নম্বর নাই।

এ ব্যাপারে আশরাফ আলী বিশ্বাস রিয়াদ বলেন,আমি এমডিএস চায়না থেকে করেছি। আমার বিএমডিসিতে এমডিএসের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর হয়নি এখনো এটার প্রোসেস চলছে। চায়নার যে প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি এমডিএস করেছেন সে প্রতিষ্ঠানটি এখনো বাংলাদেশ সরকার এ্যাপ্রুভ করেনি বলে তিনি স্বিকার করে বলেন আমি দীর্ঘদিন যাবৎ প্রাক্টিস করছি অভিজ্ঞতার আলোকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকি।আমার বিডিএস রেজিষ্ট্রেশন রয়েছে।

ডাঃ রিয়াদ বলেন, ডেন্টাল এক্সরে মেশিনের পরমানু সনদের প্রয়োজন নাই। ২৫ জন গ্রাম্য ডাক্তার তাদের আমরা ট্রেনিং দিচ্ছি তারা ট্রেনিং সেন্টারের পার্টনার হিসেবে আছেন সুতরং ট্রেনিং সেন্টারের অনুমোদনের প্রয়োজন নাই। ছয়-সাতজন ডাক্তারের সাইনবোর্ড প্রসঙ্গে বলেন, ওটা রুপক সৌন্দর্যের জন্য দেয়া হয়েছে। আমি সপ্তাহে দুদিন রোগী দেখি এবং একজন সার্বক্ষনিক রোগী দেখেন। সান শিকদারের অপচিকিৎসা প্রসঙ্গে বলেন, সানকে ওভার ডোজ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভোলার সিভিল সার্জন ডাক্তার শফিকউজ্জামান বলেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আশা করি শিঘ্রই আমরা ভুয়া ডিগ্রীধারী ডাক্তার এবং অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য নিয়ে আসবো।