চট্টগ্রামে রেলওয়ের শ্রমিকদের উপর হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি

চট্টগ্রামে রেলওয়ের শ্রমিকদের উপর হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি

গত ৭ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর গোয়ালপাড়ার তুলাতলীতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি। আজ ৯ মার্চ ২০২২ বুধবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

গতকাল ৮ মার্চ ২০২২ মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতির নেতৃত্বে একটি ১৫ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কমীর্দের দেখতে যান। এসময় তারা আহত শ্রমিক—কর্মচারীদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, অতীতেও সারাদেশে রেলওয়ের অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, রেলওয়ের দখলকৃত ভূমি উদ্ধারসহ বিভিন্ন আইনানুগ কার্যক্রমে গিয়ে রেলওয়ের কমীর্রা দুবৃর্ত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু হামলাকারীরা চিহ্নিত হওয়ার পরও দৃষ্টান্তমূলক সুষ্ঠু বিচার না হওয়াতেই হামলার ঘটনার পুনরায় ঘটছে বলে আমরা মনে করি। অবৈধভাবে রেলওয়ের বিদ্যুৎ চুরি করার পরও তারা রেলওয়ের কমীর্দের উপর হামলার দুঃসাহস কি করে পায় তা খতিয়ে দেখা দরকার। সারাদেশে হাজার হাজার দুর্বৃত্ত এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ চুরি করছে। অথচ তাদের চুরি ঠেকাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে রেলওয়ের কমীর্দের। রেলওয়ের একজন কমীর্র উপর এ ধরণের নগ্ন হামলা পুরো বাংলাদেশ রেলওয়ের উপর হামলা বলে আমরা মনে করি।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে হামলায় রেলওয়ের সিনিয়র সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (এসএসএই) এনায়েত উল্লাহ’র গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় রেলওয়ের খালাসী সুজন দাশ, রফিকুল ইসলাম, আবুল কাশেম, কামাল, ফিটার গ্রেড মিজানুর রহমান, লাইন ম্যান ইফতেখার মেহেদী আহত হন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ মার্চ) রেলওয়ের খালাসী সুজন দাশ বাদি হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আসামি করা হয় শুক্কুর, ভুট্টু, তাসলিমা আক্তার, মো. জামাল, রোকেয়া, ফয়সাল, রাজু, আরিফ, শাহিন আক্তারকে।

এছাড়া ৩০ থেকে ৪০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। প্রতিটি হামলার ঘটনায় আমরা দেখতে পাই রেলওয়ে কতৃর্পক্ষ দায়সারা মামলা করেন। কিন্তু সে মামলার আর কোন অগ্রগতি হয় না, হামলাকারীরা পার পেয়ে যান। রেলওয়ের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হলে রেলওয়ে যতটা তৎপর হন, সাধারণ শ্রমিক হামলার শিকার হলে তা হন না। আমরা রেলওয়ের প্রত্যেকটি শ্রমিক—কর্মচারীর জীবনের নিরাপত্তায় রেলওয়েকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি চট্টগ্রামে হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।