1. news.dailynobobarta@gmail.com : ডেইলি নববার্তা : ডেইলি নববার্তা
  2. subrata6630@gmail.com : Subrata Deb Nath : Subrata Deb Nath
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন
রবিবার, ২৬ জুন ২০২২, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন

ঘিওরে খাল খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আল মামুন, ঘিওর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৩ মার্চ, ২০২২
  • ৬৫ বার পঠিত

Tags: , , ,

মানিকগঞ্জের ঘিওরে খাল খনন প্রকল্প থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার ও ভেকু বসিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে ক্ষমতাসীন দলীয় এই চক্রটি।

অপরিকল্পিত মাটি কাটায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ধান, ভূট্টাসহ ফসলী জমির এবং রাতের আঁধারে ড্রাম ট্রাকে মাটি বহনের কারনে রাস্তার বেহাল দশায় কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের ভালকুটিয়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)র চলমান রয়েছে খাল খনন প্রকল্পের কাজ। ইউনিয়নের ভালকুটিয়া, বাষ্টিয়া, আঙ্গারপাড়া ও চৌবাড়িয়া এলাকার ফসলী জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৩ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে দেড় কিলোমিটার র্দৈঘ্যের খাল খননের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, কার্যাদেশ অনুযায়ী দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ্যের পরিমাপ কোনটাই মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রিয়াংকা এন্টারপ্রাইজের সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ জাহিদ।

সরেজমিন সোমবার রাত সাড়ে ৮ টায় গিয়ে দেখা গেছে, খননের মাটি কোন প্রকার ড্রেস ছাড়াই ছড়ানো ছিটানোভাবে খালের দুপাশে নামমাত্র রাখা হয়েছে। ফলে খালের মাটি খালেই পড়ছে। আর রাতভর খালের ৮০ শতাংশ মাটি ড্রাম ট্রাকে করে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয় প্রভাবশালী দিলীপ বসু, মোঃ সুজন, দেলোয়ার হোসেন, রশিদ মিয়া, রুনু মিয়া, আফজাল হোসেনসহ আরো কয়েকজন ব্যক্তি এই মাটি ব্যবসা করছেন।

দিলীপ বসু ও আফজাল হোসেন বলেন, মাটির ড্রেস ও বহনের খরচের জন্য দু এক গাড়ি মাটি বিক্রি করা হয়েছে, বাকি মাটি সরকারী রাস্তায় ফেলা হচ্ছে। এরপর তারা মুঠোফোনে নিউজ না করার জন্য অনুরোধ করে বলেন, সন্ধ্যায় আপনার সাথে বসে কথা বলবো।

স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের উন্নয়নের জন্য সরকার বিএডিসির মাধ্যমে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। কিন্তু বাস্তব প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ঠিকাদার এবং স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে খালে বর্তমানে যেভাবে মাটি কাটা হচ্ছে তাতে কৃষকদের উন্নয়ন তো দুরের কথা অনতিবিলম্বে ফসলী জমি ভেঙ্গে খালে চলে যাবে। পরিকল্পনার অভাবে কিংবা ব্যবসায়িক মনোভাবেব কারণে যদি ফসলী জমি ভেঙ্গে খালে চলে যায় তবে পানি নিষ্কাশন করে আর কি হবে?

স্থানীয়রা আরো জানান, ঠিকাদারের লোকজনকে কাজের বিষয়ে কিছু বললে তারা বড় বড় নেতাদের নাম বলে হুমকি-ধামকি দেয়। নিয়ম মাফিক চলমান প্রতিটি প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড সাটানোর কথা। কিন্তু এখানে তারা কোন সাইনবোর্ড দেননি।

ভালকুটিয়া এলাকার মো.হারেজ মিয়া বলেন, খাল খননের মিটিং-এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল খালের মাটি বিক্রি করা যাবে না। খালের মাটি কৃষকদের জমিতে রাখতে হবে এবং বাকি মাটি সরকারি রাস্তা নির্মাণে ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু কৃষকের ক্ষেতে ইরিধান। এ সময় অনেক কৃষক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও মাটি তার জমিতে রাখতে পারছেন না। এই খনন কাজ যদি মাসখানেক আগে শুরু হতো তাহলে কৃষকরা এই মাটির সংকুলান দিতে পারতো। মাটি ব্যবসায়ীরা এখন প্রশাসনকে দেখাচ্ছে এই মাটি রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে নামমাত্র মাটি রাস্তায় দিয়ে বাকি মাটি ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভর্তি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন।

চৌবাড়িয়া গ্রামের সাঈদুর রহমান, ভালকুটিয়া গ্রামের মোঃ মোতালেব জানান, যেভাবে খনন করা হচ্ছে তাতে বৃষ্টি এবং বর্ষার সময় ক্ষেত ভেঙ্গে খালে চলে যাবে। প্রথমে এরা ২৬ ফিট চওড়া করে কাজ শুরু করেছিল। আমাদের বাঁধার মুখে উপজেলা সার্ভেয়ার এবং স্থানীয় দুইজন আমিনের মাধ্যমে খাল মেপে দেখা যায়, কোথাও ৮, ১০ এবং কোথাও ১৫ ফিট চওড়া রয়েছে। পরে ইউএও সাহেবের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৫ ফিট চওড়া করে খাল খনন কাজ শুরু হয়। কিন্তু গভীরতা অনেক বেশি হচ্ছে।

বালিয়াখোড়া ইউপি চেয়ারম্যান আঃ আওয়াল খান বলেন, কৃষকদের সাময়িক সমস্যা হলেও খাল খননের ফলে কৃষকরা স্থায়ীভাবে সুফল পাবে। এই খালের মাটি বাহিরে বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই। খাল খনন কাজের পাশেই অন্য একটি ভেকুর কাজ চলমান রয়েছে। রাতের আঁধারে ওই মাটির সাথে খালের কিছু মাটি এদিক সেদিক হতে পারে।

এই প্রকল্পের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের (সাব-কন্ট্রাক্টর) মো.জাহিদ জানান, আমাদের এ কাজ এ্যাসিষ্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, এসিএল ও পিডি স্যার দেখে গেছেন। তারা আমাকে যেভাবে কাজ করতে বলেছেন আমি সেইভাবেই করছি। এ পর্যন্ত আমার দেড় লক্ষ টাকা ভতুর্কি দিতে হয়েছে।

বিএডিসি প্রকল্পের খাল খনন কার্যক্রমের তদারকি কর্মকর্তা রতন কুমার সরকার জানান, কাজের শুরুতে কিছু অনিয়ম হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেটি ঠিক হয়ে গেছে।

মানিকগঞ্জ জেলা বিএডিসি সহকারী প্রকৌশলী তিতাস জানান, খাল খননে যে ড্রয়িং ছিল, সেটি রিডিজাইন করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ করে দেখবো কোন অনিয়ম ঘটছে কিনা। পাশের জমি ভেঙ্গে যাতে খালে না পড়ে সে ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত হচ্ছে খালের মাটি দিয়ে সরকারি রাস্তা মেরামত করা হবে। কিন্তু খালের মাটি বাহিরে বিক্রির কোন সুযোগ নেই।

খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান জানান, সরকারী রাস্তায় মাটি না ফেলে মাটি বিক্রির বিষয়ে অবগত নই। খালের মাটি বাহিরে বিক্রি হলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ জাতীয় আরও খবর




All rights reserved.  © 2022 Dailynobobarta
Theme Customized By Shakil IT Park
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com