‘গলুই’ প্রদর্শনী বন্ধে বিস্মিত ও হতবাক শাকিব খান

জামালপুরে প্রেক্ষাগৃহ না থাকায় বিকল্প পদ্ধতি অর্থাৎ অডিটরিয়ামে গলুই সিনেমা প্রদর্শন শুরু করেন সিনেমাটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সরকারি অনুদান পাওয়া এস এ হক অলিক পরিচালিত সিনেমাটি অডিটরিয়ামে প্রদর্শন করতে নিষেধ করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রশাসন বলছে, বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা প্রদর্শন করতে হলে লাইসেন্স করা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শন করতে হবে। যেহেতু অডিটরিয়াম বাণিজ্যিকভাবে সিনেমা প্রদর্শনের লাইসেন্স করা কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, তাই সেখানে সিনেমা প্রদর্শন করা যাবে না।

এ নিয়ে গত পরশুদিন থেকে আলোচনা-সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সংবাদমাধ্যমগুলোও সরগরম বিষয়টি নিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকা থেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন শাকিব খান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন শাকিব খান।

তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো
করোনায় গত দুই বছর দেশের চলচ্চিত্র অনেকটাই থমকে ছিল। এবারের ঈদে ভালোমানের চলচ্চিত্রের মুক্তিতে গতি আসা শুরু করছিল। সবাই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছিলেন। প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী কলাকুশলী থেকে শুরু করে সিনেমা হল মালিক- প্রত্যেকের তাই দৃষ্টিই ছিল ঈদের চলচ্চিত্রের দিকে।

মুক্তির প্রথমদিন থেকেই আমার অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র ‘গলুই’ ও ‘বিদ্রোহী’র হল রিপোর্টও দারুণ পাচ্ছিলাম। বিশেষ করে ‘গলুই’-এর দর্শকপ্রিয়তা শুরু থেকেই ছিল অন্য রকম ভালো লাগার।

সুস্থ ধারার এই চলচ্চিত্র দেখতে মানুষ পরিবার নিয়ে আবার সিনেমাহল মুখী হয়েছেন; সংশ্লিষ্ট সবাইও তেমনটাই বলছিলেন। সব শ্রেণির দর্শক থেকে ইতিবাচক সব প্রতিক্রিয়া পাচ্ছিলাম। এমনকি দেশের প্রতিষ্ঠিত সব গণমাধ্যমেও সেই খবর উঠে আসছিল।

নতুন প্রজন্ম সরকারি অনুদানে তৈরি ‘গলুই’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন করে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারছিল; যা আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছিল।

কারও হয়তো অজানা নয় যে, ‘গলুই’ এর বেশির ভাগ শুটিং জামালপুর জেলায় হয়েছে। ফলে অন্য যেকোনো জায়গার চেয়ে ‘গলুই’ নিয়ে সেখানকার মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। অথচ এই জেলা শহরে নেই কোনো সিনেমা হল! বাধ্য হয়ে ‘গলুই’-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জেলা শিল্পকলাসহ তিনটি মিলনায়তনে ঈদের দিন থেকে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেন। এসব মিলনায়তনে দর্শকেরও উপস্থিতি ছিল উপচে পড়া।

একের পর এক সিঙ্গেল স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার এই সংকটকালে জামালপুরে বিকল্পব্যবস্থায় ‘গলুই’ মুক্তির বিষয়টি সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে, যা হতে পারত সিনেমাহল হীন অন্য জেলা কিংবা উপজেলা শহরগুলোর জন্য দৃষ্টান্ত। বাস্তবে ঘটল উল্টোটা! বাধ সাদল জামালপুর জেলা প্রশাসন! সিনেমাপ্রেমীদেরও মন ভেঙে গেল।

নানা মাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি, শত বছর আগের তৈরি ‘সিনেমাটোগ্রাফ অ্যাক্ট’-এর দোহাই দিয়ে মিলনায়তনগুলোতে ‘গলুই’-এর প্রদর্শনী বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যা শুধু আমাকে ব্যথিত করেনি, বরং বিস্মিত ও হতবাক করেছে। ‘গলুই’ চলচ্চিত্রটি যখন সাধারণ মানুষ সানন্দে গ্রহণ করেছেন, পরিবার নিয়ে দেখছেন; তখন এর প্রদর্শনী বন্ধের খবরে চলচ্চিত্রের প্রত্যেকটি মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন।

অতীতে বিকল্পব্যবস্থায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী হয়েছে! সেই সব চলচ্চিত্র প্রদর্শনে প্রশাসন সহায়তা করেছে। তাহলে ‘গলুই’ বিকল্পব্যবস্থায় প্রদর্শন হতে সমস্যা কোথায়?

চলচ্চিত্রের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা শুনে আসছি। সিনেমা হল মালিকদের স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের সঠিক প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা, সিনেমা নির্মাণে বড় অনুদানসহ সরকারের বেশকিছু পরিকল্পনা হয়তো এখন বাস্তবায়নের পথে। একই সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও চলচ্চিত্র উন্নয়নের আশ্বাস সব সময়ই দিয়ে থাকেন। আর সেই সময় যখন ব্রিটিশ আমলে তৈরি চলচ্চিত্র স্বার্থবিরোধী আইন দিয়ে পথ রোধ করা হয়, তখন বিষয়টি হয়ে ওঠে সাংঘর্ষিক। এমন অবস্থা বিরাজমান থাকলে বাংলা চলচ্চিত্র দিয়ে বিশ্বজয় করা তো দূরে থাক, এগিয়ে যাওয়াই অসম্ভব!

আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় শিগগির জামালপুরসহ যেসব জেলায় সিনেমা হল নেই, সেখানকার মিলনায়তনগুলোতে সরকারি অনুদানে নির্মিত ‘গলুই’ এর মতো সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র দেশের মানুষকে উপভোগ করার ব্যবস্থা করে দেয়া হবে।