আজ সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২ | সময় : ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
হোমক্যাটাগরিকুড়িগ্রামকুড়িগ্রামে অধিক সার-কীটনাশক ব্যবহারে হুমকীতে মাটি

কুড়িগ্রামে অধিক সার-কীটনাশক ব্যবহারে হুমকীতে মাটি

- Advertisement -

কুড়িগ্রামে কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের অধিক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাস্থ্যের গুণগতমান হুমকীর মুখে পরছে। নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে পরিবেশ ও মানব স্বাস্থ্যের উপর। অধিক ফলনের আশায় কৃষি জমিতে ব্যাপক হারে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করায় নেতিবাচক প্রভাব পরছে পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর। বাড়ছে উৎপাদন খরচও।

চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১ লাখ ১৫ হাজার ৫৫৫ হেক্টর জমিতে। অর্জিত হয় ১ লাখ ১৬ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে। এবারে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে অর্জিত হয়েছে ৭হাজার ৪০হেক্টর। ভুট্টার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩হাজার হেক্টর জমিতে। অর্জিত হয়েছে ১২ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এবারে বোরো আবাদে জেলায় গড়ে হেক্টর প্রতি সার ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকের ব্যয় হচ্ছে ২১হাজার টাকা। মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ২৪৩কোটি ৯৫লাখ ৭০হাজার টাকা। আলুতে সার ও কীটনাশ ব্যবহারে হেক্টর প্রতি ৫০হাজার টাকা হারে ৩৫কোটি ২০লাখ টাকা খরচ হবে।

- Advertisement -

এছাড়াও ভুট্টাতে হেক্টর প্রতি দু’হাজার টাকা হারে প্রায় ১৯কোটি ৪২লাখ ৫০হাজার টাকা ব্যয় হবে কৃষকের। সেই হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো, আলু, ভুট্টা, গম, সবজি, আমের মুকুলসহ অন্যান্য ফসলী উৎপাদনে গড়ে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকার সার ও কীটনাশক জমিতে ব্যবহৃত হবে। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত সার-কীটনাশকের ফলে ফসলি জমি হারাচ্ছে উর্বরতা ও শক্তি। পরিবেশ বিপর্যয়সহ জীব-বৈচিত্রের উপর এর প্রভাব পড়ছে। অতিরিক্ত সার-কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জেলায় বছর বছর কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশ প্রান্তিক কৃষকরা। তারা খরচ পুষিয়ে নিতে অধিক ফলনের আশায় মনগড়াভাবে সার ও কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করছে। এতে জমি হারাচ্ছে তার উর্বরতা শক্তি। পরিবেশ বিপর্যয়সহ নেতিবাচক প্রভাব পরছে জীব-বৈচিত্রের উপর। মানুষ চর্মসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের কৃষক জিতেন্দ্রনাথ সরকার ও অজয় সরকার জানান, কৃষকরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে অধিক ফলন পাওয়ার আশায় বেশি বেশি করে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে। এরফলে জমির যে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে তা জেনেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করছে। কৃষি বিভাগের এ ব্যাপারে কঠোর উদ্যোগ গ্রহন করা দরকার।

- Advertisement -

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রশীদ জানান, কৃষকরা তাদের ইচ্ছে মতো সার-কীটনাশক ব্যবহার করছেন। এজন্য উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাটির গুণগতমান কমে যাচ্ছে, পরিবেশ এবং মানব দেহের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তবে কৃষি বিভাগ অধিক সার-কীটনাশক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে মাঠ পর্যায় কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

- Advertisement -
আরও পড়ুন
- Advertisment -

আলোচিত সংবাদ