করতোয়া সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ

করতোয়া সেতু

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে করতোয়া সেতুর এক কিলমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছিলেন না বিভিন্ন সময় ইজারার দায়িত্ব পাওয়া বালুমহাল ইজারাদার ও তার লোকেরা। অবাধে সেতুর ৫০০ মিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করায় সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

এইদিকে গত পাঁচ মার্চ হাছিনা বেগম নামে এক নারী তার তফসিলভুক্ত জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দেন। পরে হাছিনা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার দেবাশীষ চন্দ্র কর্মকার সরেজমিন তদন্ত করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন।

সার্ভেয়ার দেবাশীষ চন্দ্র কর্মকার বলেন, ইজারা তফসিলের বাইরে ও সেতুর পাশে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করা হলেও তা মানছেন না বালু ব্যবসায়ীরা। তাই অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রত্যয় হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশকে তফসিলের বাইরে ও সেতুর নিকট থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের জন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেবীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি (অফিসার ইনচার্জ) জামাল হোসেন বলেন, এখনো কোন লিখিত নির্দেশনা হাতে পাইনি। পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিব।

প্রসঙ্গত, জেলা প্রশাসনের তফসিল অনুযায়ী দেবীগঞ্জ ঘাটে দেবীগঞ্জ মৌজার ১২৪৯, ১২৫০, ২২৫৪, ২২৬০ দাগে ৩০.৩৭ একর জমিতে বালু উত্তোলনের কথা থাকলেও তা অমান্য করে দেবীগঞ্জ মৌজার ১৪১, ১৪২, ১৪৩ দাগের ১৫.২৮ একর জমি থেকে প্রতি বছর অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট কিছু বালু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হলেও সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সেই সাথে বিপর্যস্ত হচ্ছে নদীর গতিপথ।