এনএসইউ-র প্রক্টর অফিসে ১১ এপ্রিলে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা

north south university

গত সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০২২, সকাল ১১.৩০ টায়, সহকারী প্রক্টর, জনাব জাভেদ ইবনে হাসান প্রক্টরকে ডেকে জানান যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের একটি দল জনাব আতিকুর রহমান নামে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একজন খণ্ডকালীন ফ্যাকাল্টি সদস্যকে নিয়ে আসছে। প্রক্টর অফিস ক্যাফে আরাবিকাতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ পেয়েছিল৷ সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টর উপাচার্যকে বিষয়টি অবহিত করেন, তিনি তখন সিন্ডিকেট হলে ডিনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। উপাচার্য প্রক্টরকে প্রাথমিক তদন্ত করতে বলেন।

সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শিক্ষার্থীরা জনাব আতিকুরকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে। তাঁকে আনার পরপরই, সহকারী প্রক্টর, মিসেস সিলভিয়া আহমেদ তাকে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরাম ও সম্মানের সাথে সহকারী প্রক্টরদের অফিসে বসতে অনুরোধ করেন, এসময় তাঁকে খাবার ও পানীয় সরবরাহ করেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করেন তার চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজনে আছে কিনা। তারপর সহকারী প্রক্টর মিসেস সিলভিয়া এবং জনাব জাভেদ ভুক্তভোগীর কাছে ঘটনার কথা শুনেন এবং তাকে একটি লিখিত বক্তব্য লিখতে বলেন। এরপর মিসেস সিলভিয়া এবং জনাব জাভেদ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কথা শোনেন এবং তাদের লিখিত বক্তব্য নেন।

তাদের বক্তব্য থেকে তারা জানতে পারেন যে, জনাব আতিকুরকে ক্যাফে আরাবিকাতে ছাত্ররা একজন ছাত্রীর সাথে তার উপস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এসময় তার পেছনে ছুটতে থাকে শিক্ষার্থীরা। যখন তাকে খুঁজে পাওয়া যায় তখন দেখা যায়, নির্মাণ শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ তাকে চোর ভেবে মারধর শুরু করে। ছাত্ররা তাকে মারধরের হাত থেকে উদ্ধার করে। জনাব আতিকুর তার অন্যায়ের জন্য তাকে ক্ষমা করার জন্য জনতা এবং ছাত্রদের সামনে অনুনয়-বিনয় শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা জানায়, বিচারের জন্য তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। জনাব আতিকুর তখন ছাত্রদের ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা অফার করেন তাকে কোনো কর্তৃপক্ষের কাছে না নিয়ে আসা এবং তাকে মুক্ত করার জন্য। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে বদ্ধপরিকর ছিল। তাদের বক্তব্য নেওয়ার পর ভিকটিম ও শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলা হয় এবং পরে ডাকা হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রক্টর অফিসে রিপোর্ট করতে বলা হয়। যাওয়ার আগে শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া জনাব আতিকুরের মোবাইল ফোন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র তুলে দেন।

উপাচার্য প্রক্টর অফিসে আসেন, ঘটনাটি শুনেন, প্রক্টরকে তদন্ত চালিয়ে যেতে এবং জনাব আতিকুরকে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেন। ঘটনার গভীরতার অনুভব করে প্রক্টর ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক, অ্যাডমিন; চিফ সিকিউরিটি অফিসার (সিএসও) এবং সহকারী প্রক্টর মিসেস সিলভিয়া এবং জনাব জাভেদ ডেকে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেন। এরপর ৬ (ছয়) সদস্যের দল প্রথমে জনাব আতিকুরের কথা শোনেন। দলটি ভিকটিম ও ছাত্রদের কথাও শোনে যারা আতিকুরকে নিয়ে আসে। দলটি প্রাথমিকভাবে দেখেছে যে এটি যৌন হয়রানির একটি সম্ভাব্য ঘটনা। যেহেতু ছাত্ররা উত্তেজিত ছিল এবং একটি সম্ভাব্য ছাত্র আন্দোলন ঘটতে চলছিল, যেমনটি অতীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরনের ঘটনায় ঘটেছে, তাই দলটি অভিযুক্ত শিক্ষক জনাব আতিকুর রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল।

শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত জানার জন্য প্রক্টর কার্যালয়ের বাইরে অপেক্ষারত বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের হাত থেকে তাকে রক্ষা করতে প্রক্টর কার্যালয়ে দুইজন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। তার মানসিক অবস্থা এবং ক্যাম্পাসের বাইরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সম্ভাব্য হামলা থেকে তার নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দল তার এক আত্মীয়কে ডেকে তাকে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। জনাব জসিম উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ জনাব আতিকুরের ভাই, জনাব জাকিরকে ফোন করে এনএসইউতে আসার জন্য অনুরোধ করেন। জনাব জাকির ক্যাম্পাসে আসতে একটু সময় নেন। ইতিমধ্যে, এনএসইউ এর (সিএসও) তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তার জন্য নিরাপদ প্রস্থানের জন্য বসুন্ধরা সিকিউরিটির সাথে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি ভাটারা থানায় খবর দেওয়া হয়। জাকির সাহেব আতিকুরকে নিরাপদে নিজের হেফাজতে নিয়ে বিকাল ৫টার দিকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।