শুক্রবার, আগস্ট ১২, ২০২২
Homeশিক্ষাঙ্গননর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিএনএসইউ-তে ঔষধ এবং জরুরী পণ্যের বাণিজ্য শীর্ষক ওয়েবিনার

এনএসইউ-তে ঔষধ এবং জরুরী পণ্যের বাণিজ্য শীর্ষক ওয়েবিনার

বেসরকারী পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার পথপ্রদর্শক, দেশের প্রথম এবং সকল ধরনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগ ‘স্বয়ংসম্পূর্ণতা থেকে সমষ্টিগত নিরাপত্তাঃ কোভিড অতিমারী কিভাবে আমাদের ভ্যাকসিন, ঔষধ এবং জরুরী পণ্যের বানিজ্য নিয়ে নতুন চিন্তার খোরাক যোগায়’ শীর্ষক একটি ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

এই ওয়েবিনারে অতিথি বক্তা হিসেবে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা চেয়ার জনাব মাইকেল ইউইং চাও। ওয়েবিনারটির শুরুতে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ রিজওয়ানুল ইসলাম।

অধ্যাপক চাও তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, মানুষ স্বভাবজাতভাবেই স্বার্থপর, কিন্তু মানুষের স্বার্থপরতা সত্ত্বেও সামষ্টিক স্বার্থে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, এমনকি সম্পদের চরম ঘাটতির সময়েও মানুষের পরার্থে কাজ করার অবকাশ রয়েছে। তিনি দেখান যে, আন্তর্জাতিক বানিজ্য এবং পরিকল্পনামাফিক আপতকালীন মজুদের মাধ্যমে এমনকি সিঙ্গাপুরের মত একটি নগর রাষ্ট্রও খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন করতে পারে। তিনি বলেন যে, দেশীয় পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতিটি দেশই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারবে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরবের গম উৎপাদনের ব্যাপক ভর্তুকি দিয়ে সাফল্য অর্জন সত্ত্বেও এই নীতির অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত অসারতা তুলে ধরেন। প্রফেসর চাও বলেন, ম্যালাথাসের তত্ত্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ উপেক্ষা করেও বিশ্বে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্যের যোগান থাকবে। কিন্তু খাদ্যের যোগান নিশ্চিত হলেও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব নিশ্চিত করতে হলে খাদ্যের সুষম বন্টন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যে ধরনের সংকীর্ণমনা অর্থনৈতিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হয় সেগুলোই খাদ্য, ঔষধ, বা ভ্যাকসিনের মত আবশ্যকীয় পণ্যের সুষ্ঠু সরবরাহের পথে প্রতিবন্ধক৷ তিনি বলেন যে, ২০০৮ সালে খাদ্যের যোগানের কোন আকষ্মিক ঘাটতির জন্য নয় বরং কিছু রাষ্ট্রের চাল রপ্তানী নিষেধাজ্ঞার জন্যই ২০০৮ সালে বিশ্বে খাদ্যের মূল্য নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়।

অধ্যাপক চাও তাঁর আসিয়ান প্লাস তিন (অর্থাৎ আসিয়ানের সদস্য দশটি রাষ্ট্র এবং চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া) আঞ্চলিক চাল সংক্রান্ত বাণিজ্য চুক্তির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার মেধা ভিত্তিক সম্পদ বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে আমাদের সবারই কমবেশি উদ্বেগের কারণ আছে, কিন্তু এটাও অনস্বীকার্য যে, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের কোন ধরনের আইনী সুরক্ষা ছাড়া ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন যে, বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার আইনী কাঠামোতে করোনা অতিমারী বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের মত মানব জাতির প্রতি হুমকির ক্ষেত্রে সমষ্টিগত স্বার্থে কাজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। অধ্যাপক চাও বলেন যে, উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশে তৈরি হওয়া জেনেরিক ঔষধের নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি অমূলক। তিনি তাঁর বক্তব্যের উপসংহারে বলেন, কোন মানুষ বা কোন রাষ্ট্র কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত চলতে অক্ষম। আমরা সমষ্টিগতভাবে কাজ করে মানবতার জন্য অনেক কিছু অর্জন করতে পারি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ওয়েবিনারটি বিভিন্ন প্রশ্ন উত্তরের মাধ্যমে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ডঃ মোঃ রিজওয়ানুল ইসলাম পরিচালনা করেন। এটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক ওয়েবিনার সিরিজের ২৫ তম ওয়েবিনার, যা ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশিষ্ট অধ্যাপকরা এই ওয়েবিনার সিরিজটির বিভিন্ন পর্বে, বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে আসছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular